বিএনপির নেতৃত্বধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ-হরতালে পেট্রোলবোমায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিছানায় ৬২ জনের মতোই যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে ছোট্ট শিশু মরিয়ম আক্তার রুপা। মুখ ও হাত-পায়ের আঙ্গুল বাদে দুধে আলতা রঙ্গের রুপার শরীরের বাকি অংশ ঢাকা পড়েছে সাদা ব্যাণ্ডেজে।
বুধবার রাতে গাজীপুরে অগ্নিদগ্ধ ৬ জনের মধ্যে রুপাসহ তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ছয় বছরের শিশু রুপা। খেলার বয়সী এই শিশু কেন রাজনীতির শিকার ? অসহায় গার্মেন্টস শ্রমিক মা জানেননা এর কোন উত্তর।
ওষুধ দিয়ে ঘুমিয়ে পাড়িয়ে রাখা হয়েছে রুপাকে। শরীরের ২০% পুড়ে যাওয়ার অসহ্য যন্ত্রণা থেকে কিছুটা মুক্তি দেয়ার চেষ্টা। ঘুম ভাঙ্গলেই যন্ত্রনায় কুকড়ে উঠবে তার বুকের ধন। এই আতঙ্কেই অস্থির হয়ে আছেন হতভাগি মা।
দুই বছর আগে ব্ল্যাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ওপারে পারি দিয়েছেন নার্গিসের স্বামী। এরপর শেষ অবলম্বনকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই কাজ নিয়েছিলেন গার্মেন্টসে। কিন্তু কেন এমন হলো? কি অপরাধ তাদের?
ঢাকা থেকে গাজীপুরগামী বলাকা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসে বিএনপি-জামাত দুবৃত্তদের পেট্রোলবোমার শিকার এই শিশুটিসহ ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন আরো ৫ জন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় বোমায় দগ্ধ হয়ে এ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন ১২৮ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন ৬৬ জন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৮ জন।
এদিকে, কুমিল্লা ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দগ্ধদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার।