বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে ৬ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড ফখরুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। স্বাস্থ্যপরীক্ষা শেষে তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মঙ্গলবার সকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়। এ সময় ৬ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড ফখরুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুপারিশ করে।
বেশ কয়েকটি পরীক্ষার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মির্জা ফখরুলের অবস্থা হাসপাতালে ভর্তি করার মতো নয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় এবং ঘন ঘন রিমান্ডে নেয়ায় ফখরুলসহ বিএনপি নেতারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাদের বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা এবং সবার প্রতি মানবিক আচরণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে মির্জা ফখরুলকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
পরে বিকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় এবং ঘন ঘন রিমান্ডে নেয়ায় বিএনপি নেতারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। নেতাদের বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে বিএনপির এই নেতাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ সময় হাসপাতালের পরিচালক আবদুল মজিদ ভূঁইয়া বলেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মির্জা ফখরুলকে এখানে আনা হয়েছে। গুরুতর কোনো সমস্যার কথা জানাননি তিনি। তাকে দেখার জন্য ছয় সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পরই তারা মির্জা ফখরুলকে দেখবেন।
সকালে মির্জা ফখরুলকে কাশিমপুরের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে ঢাকার আনা হয়।
এ বিষয়ে কাশিমপুর কারা তত্ত্বাবধায়ক প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, মির্জা ফখরুলের হৃদরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা আছে।
চিকিৎসকের পরামর্শে সকাল পৌনে ৮টার দিকে তাকে কারাগারের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাকে প্রথমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হবে পরে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে।
কারা চিকিৎসক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মির্জা ফখরুলের ইন্টারনাল করোটিড আর্টারি (মাথায়) ব্লক রয়েছে। এ ছাড়া পেটের সমস্যা, ঊচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগে ভুগছেন তিনি। তাকে ভাস্কুলার সার্জন, নিউরোলজিস্ট, গ্যাস্ট্রো এন্টেরোলজিস্ট ও কার্ডিওলজিস্ট দেখানো দরকার।
চিকিৎসক মো. আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, প্রায় দুই মাস আগে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা নিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। কিন্তু তখন একসঙ্গে সব চিকিৎসককে দেখানো সম্ভব হননি। তিনি সেখানে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে চান।
গত ৬ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে বের হওয়ার পর মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা।