আজ ২৮ মে। ওয়ার্ল্ড মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ডে। দিবসটির উদ্দেশ্যই হচ্ছে এমন একটি সমাজ তৈরি করা যেখানে প্রত্যেক নারীর পিরিয়ডের সময়টা সুস্থ আর নিরাপদে কাটানোর অধিকার থাকবে। ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিনটি পালন করে আসছে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ওয়াটার স্যানিটেশন অ্যান্ড হাইজিন- ডব্লিউএএসএইচ।
দ্বিতীয়বারের মতো নানা আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
সাধারণত বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই নারীর পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব হয়ে থাকে। মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হয়ে ২ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত এই চক্র চলে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক নিয়মে। অথচ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে এই বিষয়টি নিয়ে আলাপ বা প্রকাশ্যে কথা বলা অনেকটাই ট্যাবু হিসেবে দেখা হয়।
বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে,
১. বাংলাদেশে বয়ঃসন্ধি পাড় করা ৫২% নারীর পিরিয়ডের হার স্বাভাবিকভাবে।
২. প্রতি মাসে কমপক্ষে ৩ দিন দেশের ৪০% মেয়ে পিরিয়ডের কারণে স্কুলে যেতে পারে না। একই কারণে প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন শিক্ষিকারাও।
৩. পিরিয়ডজনিত জটিলতায় প্রতি মাসে গড়ে ৬ দিন করে কাজে অনুপস্থিত থাকেন গার্মেন্টসে কর্মরত নারীরা।
৪. পিরিয়ডের সময় পরিচ্ছন্নতার অভাবে দেশের ৯৭% নারীর কোনো না কোনো সময়ে সার্ভিক্যাল ইনফেকশনের সমস্যা হয়ে থাকে। গ্রামাঞ্চলে গর্ভজনিত জটিলতার শিকার হয় লাখ লাখ নারী।
৫. পিরিয়ডকে এখনো প্রাপ্তবয়স্কতায় লক্ষণ বলে ধরা হয়। ফলে পিরিয়ড শুরু হওয়ার ১ থেকে ৪ বছরের মধ্যে দেশের ৬৮% নারীর বিয়ে হয়ে যায়।
৬. জরিপে দেখা গেছে, দেশের মাত্র ১৩% নারী পিরিয়ডের সময় স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করে। বাকি ৬৭ শতাংশ নারী এখনো প্রথাগত পদ্ধতি ব্যবহার করে।
আর বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে আলাপ-আলোচনার সুযোগ না থাকায় এ সম্পর্কে সঠিক কোনো ধারনা পায় না নারীরা। শুরু থেকেই ভুল আর কুসংস্কার ভরা তথ্য পেয়ে আসে। যে কারণে প্রথম প্রথম পিরিয়ডের সময় মেয়েরা একে অসুখ মনে করে ভয় পায়। একাকিত্বে ভোগে।