মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সোমবার বিক্ষোভ করেছেন।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও পুলিশি বাধায় ঢুকতে না পেরে প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় বসে বিক্ষোক করেন তারা। এর আগে শাহবাগেও তারা পুলিশের বাধার মুখে পড়েন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, একদিকে সরকার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করে চলেছে, অন্যদিকে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ব্যক্তিদের আটক করা হচ্ছে পুরো বিষয়টি তাদের কাছে খুব গোলমেলে মনে হচ্ছে।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে বলেও জানায় শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনে যোগ দেয়া অভিভাবকরা জানান, শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন যৌক্তিক হওয়ায় তারাও আন্দোলনে নেমেছেন।
অভিভাবকরা বলেন, পরীক্ষার আগে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি জানতো মেডিকেল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তারা চাইলে পরীক্ষা বাতিল করতে পারতো। পুনরায় পরীক্ষা না নেয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের সঙ্গে থাকবেন বলেও জানান তারা।
সকাল ১০টার দিকে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী শহীদ মিনারে জড়ো হন। তারা এ সময় ‘যদি হয় প্রশ্নফাঁস, পড়ব কেন ১২ মাস’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘উই ওয়ান্ট রি অ্যাকজাম’—এসব স্লোগান দেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা মুখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে রওনা হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা শাহবাগে পৌঁছালে পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি চলে।
একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থানার সামনে বসে পড়েন। পুলিশ তাদের ঘিরে রাখে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের অভিভাবকেরা ছিলেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশির ভাগই মেয়ে। দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থেকে ওঠে প্রেসক্লাবে যান। এ সময় মিছিলের সামনে ও পেছনে পুলিশ ছিল। পরে প্রেসক্লাবে ঢুকতে গেলে বাধা দেয় পুলিশ। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বসেই স্লোগান দিতে থাকেন।
গতকাল রোববারও ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বিক্ষোভ করেন। গতকালের অবস্থান কর্মসূচিতে ওই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে একযোগে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা হয়। পরীক্ষার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। দেশের ১০টি জেলায় এ নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গত বৃহস্পতিবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রংপুর থেকে তিন চিকিৎসকসহ সাতজনকে আটক করেছে।
তাদের বিরুদ্ধে এখনো সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ আনা হয়নি বলে জানিয়েছেন রংপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী। এ নিয়ে টানা ১০ দিনের মতো এ বিক্ষোভ চলছে। আজও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করেছে।