দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষই নানা ধরনের মানসিক রোগে ভুগছে। তাদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী দুই কোটি ৭০ লাখ শিশু-কিশোর ভুগছে কোন না কোন মানসিক রোগে। মানসিক স্বাস্থ্য ও এর চিকিৎসার প্রতি মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকায় রোগীর সংখ্যা কমছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে পারিবারিক অস্থিরতা, বিসদৃশ সমাজে জীবন যাপনের চাপ আর মূল্যবোধের অবক্ষয়কেই মানসিক রোগের প্রাদুর্ভাবের পেছনে দায়ী করলেন মনোবিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে কখনও খুব বেশি একটা গুরুত্ব দেয়া হয় না। একেবারে মানসিক বৈকল্য দেখা না দিলে বাকি সব মানসিক অসুস্থতাকে নেয়া হয় হালকাভাবে।
এর ফলে দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মানসিক রোগীর সংখ্যা। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক জরিপে বলা হয়েছে-
বর্তমানে ১৮ বছরের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে মানসিক রোগী প্রায় ১৬.১%। আর এর মধ্যে উদ্বেগজনিত চাপে ভোগেন ৮.৪%। বিষন্নতায় ভোগেন ৪.৬%। গুরুতর মানসিক রোগী ১.১%।
আর মাদকাসক্তির কারণে মানসিক রোগ দেখা দেয় .৬%।
অধিকাংশ মানসিক রোগের উৎস উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। তবে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার ব্যাপারে সচেতনতা না থাকায় এদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা আরো জটিল হয়ে উঠেছে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ওই একই জরিপে আরো বলা হয়েছে:
১৮ বছরের নিচে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ১৮.৪%। এদের মধ্যে মানসিক প্রতিবন্ধী ৩.৮%। মৃগীরোগী ২%। মাদকাসক্তিতে আক্রান্ত ০.৮%।
মানসিক রোগের পেছনে পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়ে যাওয়া, সামাজিক সহিংসতা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যকেই প্রধান কারণ বলে মনে করছেন মনোচিকিৎসকরা।
এবার আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী আলোচনা সভা, মানববন্ধনসহ জনসচেতনতামূলক নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।