বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ঔষধ শিল্পে প্যাটেন্ট বা মেধাস্বত্ব ছাড় পাওয়া যাবে আরো ১৭ বছর—বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদরদপ্তরে ট্রিপস কাউন্সিলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
এ সুযোগ উঠে গেলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই আবিষ্কারক কোম্পানিকে বিশাল অংকের মেধাস্বত্ত ফি দিয়ে নতুন কোনো ঔষধ তৈরির অনুমতি নিতে হতো।
এতে ঔষধের দাম মানুষের নাগালের বাইরে যাওয়ার একটি ঝুঁকি ছিল— কিন্তু এ সুবিধা নবায়নের ফলে সে ঝুঁকি কেটে গেছে বলে জানান, ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি পাপন ।
এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে, আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে ক্যান্সার, ডায়বেটিস ও এনথ্র্যাইসিসহ বেশ কিছু রোগের ঔষধ বাংলাদেশে বিনামুল্যে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন শিল্প সংশ্লিসষ্টরা।
এছাড়ের ফলে বাংলাদেশে ঔষধের দাম বাড়ার এবং রপ্তানি বাজার হারানোর ঝুঁকি কেটে গেল বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মানুযায়ী কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠান ঔষধের নতুন কোনো ফরমুলা আবিষ্কার করলে পরবর্তী ২০ বছরে অন্য কোনো কোম্পানি তা নকল করতে পারবে না। তবে আবিষ্কারক কোম্পানির অনুমোদন নিয়ে বিশাল অংকের প্যাটেন্ট বা মেধাস্বত্ত ফি দিয়ে অন্য কোম্পানি তা উৎপাদন করতে পারতো। কিন্তু বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য এ নিয়ম প্রযোজ্য ছিল না। বিনা প্যাটেন্ট ‘ফি’তেই এসব দেশ ঔষধ উৎপাদন করতে পারতো। যে কারণে গ্রাহকরাও স্বল্প মুল্যে ঔষধ পেয়ে আসছে।
এ সুযোগের মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু বাংলাদেশের নেতৃত্বে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর প্রচেষ্টায়, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এ সুযোগ বাড়িয়েছে আরো ১৭ বছর।
গত ৬ নভেম্বর জেনেভায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদরদপ্তরে ট্রিপস কাউন্সিলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।