সূর্যের দেখা মিললেও সারাদেশে কমেনি শীতের তীব্রতা—সেইসঙ্গে শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত নানা রোগ। আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন রোগীরা। দিনাজপুরে গত দুই দিনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে প্রায় শতাধিক শিশু।
আর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে প্রায় সাড়ে ১৩০০শিশু।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত দিয়ে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, দিনাজপুরে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবে প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোতে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুরা ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতালে শিশু ভর্তির চাপ এতটাই বেশি যে সরকারি হাসপাতালে বেডে সংকুলান না হওয়ায় মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল সিনিয়র শিশু কনসালটেন্ট ডা. আব্দুল ওয়াহেদ দেশ টিভিকে বলেন, এ সময়ে শিশুরা রোটা ভাইরাসে ডায়রিয়া ও আরএসবি ভাইরাসে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। তবে শীতজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে সতর্কতার পাশাপাশি ঘনঘন মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করার কথাও জানানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে শিশুরোগীর বেডের সংখ্যা মাত্র ১৮টি। কিন্তু প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ জন শিশু। আর অরবিন্দু শিশু হাসপাতালে বেডের সংখ্যা ৬৫টি হলেও প্রতিদিন ভর্তি থাকছে প্রায় দেড় শতাধিক শিশু। গত দুই /এক দিনে অরবিন্দ শিশু হাসপাতালে প্রায় সাড়ে ১৩০০ শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। একইভাবে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে শিশু ছাড়াও বৃদ্ধ ৪০০ রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া শিশুদের অভিভাবকরা জানান শীতজনিত রোগের কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অরবিন্দ শিশু হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, গত এক সপ্তাহে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত প্রায় সাড়ে ১১০০ শিশুকে এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
এই সময়ে শিশুরা রোটা ভাইরাসে ডায়রিয়া ও আরএসবি ভাইরাসে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এসব ভাইরাসের প্রার্দুভাব এ বছর বেশি বলে জানান এ বিশেষজ্ঞ।
তিনি বলেন, রোগী সংখ্যা বেশি হওয়ায় মেঝেতে তাদেরকে চিকিৎসা প্রদান করতে হচ্ছে।
এদিকে, গুড়িগুড়ি বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজারের গ্রামীণ ও চা বাগান এলাকার জনপদ।
চা অধ্যুষিত এলাকায় শীত জেঁকে বসায় কাজে যেতে পারছেন না চা শ্রমিকরা। ঠাণ্ডায় কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় ভিড় হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে।
অসময়ে বৃষ্টি ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নেত্রকোনার জনজীবন। কনকনে শীতের কারণে কাজে যেতে পারছেন না খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষেরা। প্রচণ্ড শীতে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা বিঘ্নিত হচ্ছে।
দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল: