রাজধানীর উত্তরায় গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে দগ্ধ প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ মারা গেছেন। তার স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। দগ্ধ হয়ে এরইমধ্যে মারা গেছে এ দম্পতির দুই সন্তান। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছে সবার ছোট জারিফ।
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি গ্যাস ব্যাবহারে জনগণের আরো সতর্ক হওয়ার বিষয়টিকে আবারো সামনে নিয়ে এসেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানেরও সতর্ক হওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০ ফেব্রুয়ারি উত্তরার নতুন ভাড়া করা ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে ওঠেন মার্কিন দূতাবাসের প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ। শুক্রবার সকালে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে আহত হলে, পরিবারের ৪ সদস্যসহ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকালেই মারা যায় ৮৮ শতাংশ দগ্ধ হওয়া তার ছেলে শারলিন ও ৭৪ শতাংশ পুড়ে যাওয়া জায়ান।
শরীরের ৯৫ ভাগ পুড়ে যাওয়া শাহনেওয়াজও শনিবার বিকালে মারা যান।
স্ত্রী সুমাইয়ার শরীরেরও ৯০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন, চিকিৎসকরা।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছে তাদের সবার ছোট সন্তান জারিফ। এঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সে।
বাড়ির মালিক গ্যাস পাইপের লিকেজ ঠিকভাবে না সারানোয় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে উল্লেখ করে রান্নার কাজে গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিলেন বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডাঃ সামন্তলাল সেন।
সেইসঙ্গে গ্যাস বিতরণ ও সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষকেও গ্যাস লাইনের ত্রুটি ও লাইন মেরামতে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তারা।