এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ২০৩০ সালের মধ্যে এইচআইভি/এইডস মুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হল আন্তর্জাতিক এইডস সম্মেলন।
সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সম্মেলনে এইডস মুক্ত করতে এ অঞ্চলের ৫৬টি দেশ কিভাবে কর্ম পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন বিষয়ে ‘ঢাকা ডিকলারেশন’ নামে কৌশলপত্র ঘোষণা করা হয়।
এইডস প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও সমাজসেবীসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন নীতি-নির্ধারকরা।
এইচআইভি/এইডস সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক ফোরাম-আইক্যাপ এর তথ্য অনুযায়ী এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১৫ বছরের নিচে ১ লাখ ৮০ হাজার শিশু এইচআইভি বহন করছে। এদের ৯০% সংক্রমন গর্ভাবস্থায়। আর বাংলাদেশে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।
আগামী ১২ বছর এ অঞ্চলের ৫৬টি দেশের এইডস প্রতিরোধে কর্ম কৌশল ও তার বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা রয়েছে এতে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘এইডস প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে এইডসের প্রকোপ অনেক কম। এটি নির্মূল করতে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, সিনেমা-নাটকেও প্রচারণা বাড়াতে হবে। আর এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়েই ২০৩০ সালের মধ্যে এইডস নির্মূল সম্ভব।’
এইডস প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও অন্যান্যদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন. টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাসহ বিশ্বজুড়ে এইডস প্রতিরোধে যে সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এই সম্মেলন সে লক্ষ্য পূরণেও পথ দেখাবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এইডস প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিকোন থেকে এইডস সম্পর্কে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। আশা করছি আইক্যাপ যে ঘোষণা দিয়েছে তা বাস্তবায়নে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
বিশ্বের ৫৬টি দেশের প্রায় এক হাজার বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, গবেষক, সরকারি-বেসরকারি নীতি-নির্ধারকদের পাশাপাশি এইডস আক্রান্তরাও এই সম্মেলনে অংশ নেন।