দেশে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। শিগগিরই তামাকজাত দ্রব্যের বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। দেশে এখনও উৎপাদন ও বিপননের দিক থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে বলে জানিয়েছেন বিশেজ্ঞরা।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গত দশ বছরে বাংলাদেশে ৫ থেকে ৬ শতাংশ হারে তামাকের ব্যবহার বেড়েছে। এর ফলে ফুসফুস, মুখ গহ্ববরে ক্যান্সার ও স্ট্রোকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে আর মারা যাচ্ছে বছরে ৫৭ হাজার মানুষ।
এ অবস্থায় আইনের কঠোর বাস্তবায়নের পাশাপাশি তামাক পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ধূমপান বা তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই হয়ে আসছে। ধূমপানকে বিষপানের সঙ্গে তুলনা করা হলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব আরো বেশি। কারণ বিষপানে একজনের মৃত্যু হলেও, ধুমপান আশপাশের মানুষকেও মৃত্যুঝুঁকিতে ফেলে দেয়।
বেসরকারি হিসেবে দেশে বর্তমানে ১ লক্ষ ৮ হাজার হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয় আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবশেষ তথ্য বলছে, বাংলাদেশের প্রায় ৫ কোটি মানুষ তামাক সেবন করে। ৫৭ হাজার মৃত্যু বরণ করে। আর ৯৮% মাদকসেবির হাতেখড়িও হয়ে থাকে বিড়ি, সিগারেট দিয়ে।
চিকিৎসকরা বলছেন, তামাক সেবনের কারণে ফুসফুস ও মুখে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। সমান ক্ষতি হয় ধোয়াবিহীন তামাক জর্দা, গুল, সাদাপাতা, খৈনি সেবনে। বর্তমানে এধরনের রোগে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেড়েছে।
তামাক ব্যবহারে অর্থনৈতিক ক্ষতির হিসাবে, এ খাতে সরকারের ব্যয় ৫ হাজার কোটি টাকা আর এ খাত থেকে রাজস্ব আদায় হচ্ছে মাত্র আড়াই হাজার কোটি টাকা।
তামাকের ব্যবহার কমাতে কর বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে তামাকের ব্যবহার যখন কমতে শুরু করেছে, তখন বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোতে তামাকের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ার পেছনে এর সহজলভ্যতা আর আইন প্রয়োগে দুর্বলতাকে দুষছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
এ পরিস্থিতে সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণের নজরদারি বাড়াতে যাচ্ছে। এরইমধ্যে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।