রংপুর মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন ডাক্তারদের অনিদৃষ্টকালের ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে অচল হাসপাতালের কার্যক্রম। বহিরাগত সন্ত্রাসী কর্তৃক ইন্টার্ন ডাক্তারকে মারধর করে নগদ অর্থ ও মোবাইল ছিনতাইসহ ৫ দফা দাবিতে এ ধর্মঘট ডাকা হয়।
দাবিসমূহ হলো: পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, ক্যাম্পাসে আলোর ব্যবস্থা, বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ, ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ডা. সুমন আলীর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে ডিউটি শেষে ইন্টার্ন হোস্টেলে যাওয়ার সময় বৃহস্পতিবার রাতে ক্যাম্পাসে একদল সন্ত্রাসী ইন্টার্ন ডা. সুমন আলীকে মারধর করে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্ন ডাক্তারদের নিরাপত্তা প্রদান দায়িদের শাস্তি ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবিতে শুক্রবার থেকে অনিদৃষ্টকালের ধর্মঘট ডাক দেয়।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. রিফাত বলেন, কয়েক সপ্তাহে পর পর ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে বার অনুরোধ জানানোর পরেও কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে।
হাসপাতালে অব্যাহতভাবে ছিনতাইসহ অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আসম বরকত উল্লাহ বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
এদিকে, ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকাল থেকে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন অব্যাহত রেখেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
প্রায় দুই শতাধিক ইন্টার্ন চিকিৎসক ধর্মঘট শুরু করায় হাসপাতালের ৪৫টি ওয়ার্ডের শত শত রোগী চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকে হাসপাতাল ছেড়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।