আইন করে বাধ্যতামূলক করা হলেও বাংলাদেশে ৭৫% তামাক পণ্যের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা নেই। আর বাকী ২৫% পণ্যে দায়সারাভাবে সচিত্র সতর্কবাণী যুক্ত করা হয়েছে। তামাক বিরোধী সংগঠনগুলোর এক সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
তামাকের ভয়াবহ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি বাজার পর্যবেক্ষণে সরকারের প্রতি তাগিদ তাদের। সেইসঙ্গে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছে এসব সংগঠন।
তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এ বছরের ১৯ মার্চ থেকে সিগারেটসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের মোড়কে সচিত্র সতর্কবার্তা বাধ্যতামূলক করে সরকার। ওইদিনের পর থেকে বাজারে ছবিযুক্ত সতর্কবার্তা ছাড়া কোনো তামাক পণ্য বাজারজাত করা যাবে না বলে, কঠোর নির্দেশ জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
তবে বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গত এক মাসে অধিকাংশ তামাক কোম্পানিই সরকারের এই আদেশ মানেনি।
এদিকে, এ বিষয়ে বেসরকারি সংস্থা ক্যাম্পেইন ফর টোবাকো ফ্রি কিডস এবং প্রজ্ঞার সহায়তায় তামাক বিরোধী ৭টি সংগঠনসহ দেশের মোট ৮ বিভাগে সমীক্ষা চালায়।
এপ্রিলের ৪-৭ দিনে ১২০টি দোকানে চালানো এ সমীক্ষায় দেখা গেছে, তামাকজাত পণ্যের ৭৫% মোড়কে ছবিযুক্ত সতর্কবার্তা নেই।
সমীক্ষা অনুযায়ী তামাক পণ্যে ছবিযুক্ত সতর্কবার্তা প্রকাশের চিত্র:
* ৩৫টি ব্র্যান্ডের ৭শ সিগারেটের প্যাকেটের ৫৫.৩% ছবি নেই
* ১৪টি ব্র্যান্ডের ৮৮টি বিড়ির প্যাকেটে সতর্কবার্তার উপস্থিতি ০%
* ১০০টি জর্দা এবং ১৩টি গুল কারখানার মধ্যে মাত্র একটি ব্র্যান্ডে ছবিযুক্ত সতর্কবার্তা রয়েছে
এছাড়াও দেশের মোট ৬টি সিগারেট কোম্পানীর ৪টিই সরকারের এ আদেশ মানেনি। বিদেশি সিগারেটের ক্ষেত্রে এ আইন মোটেই কার্যকর হয়নি।
যে সকল কোম্পানি এ আইন বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে, তারাও সরকারের নির্দেশ অনুসরণ করেনি বলে সমীক্ষার ফলাফলে বলা হয়। এই পরিস্থিতিতে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার তাগিদ তাদের।
আইন অনুযায়ী, তামাকজাত পণ্যের মোড়ক, কার্টন বা কৌটার উভয় পাশে মূল প্রর্দশনী তলের কমপক্ষে ৫০% স্থান জুড়ে রঙিন ছবি ও লেখা সম্বলিত সতর্কবার্তা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আর বিড়ি, জর্দা গুলসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের মোড়ক, কার্টন বা কৌটার ওপরে শতকরা ৫০% জুড়ে এ সতর্কবার্তা ছাপতে বলা হয়েছে।
সতর্কবাণী একই রেখে তিনমাস পর পর ছবি পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে আইনে।