আজ ২৮ মে, ওয়ার্ল্ড মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ডে—নারীদের পিরিয়ডের সময়টা সুস্থ, পরিচ্ছন্ন আর নিরাপদে কাটানোর সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এ দিবসের অবতারণা। এবারের শ্লোগান ‘সংকোচ নয়, চাই সচেতনতা’। পিরিয়ড নিয়ে প্রকাশ্য আলাপ-আলোচনা না থাকায় এ বিষয়ে বয়ঃসন্ধি থেকেই কোনো ধারণা পায় না নারীরা। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সমীক্ষা বলছে, পিরিয়ডকালীন পরিচ্ছন্নতার অভাবে দেশের ৯৭ শতাংশ নারী সার্ভিক্যাল ইনফেকশনের মধ্যে পড়েন। গ্রামাঞ্চলে নারীরা গর্ভজনিত জটিলতার শিকার হন বিপুল সংখ্যায়। জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৪ শতাংশ নারী পিরিয়ডকালীন স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন।
বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই নারীর পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব শুরু হয়। মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হয়ে ২ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত এই চক্র চলে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক নিয়মে। অথচ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে এখনো এই বিষয়টি নিয়ে আলাপ বা প্রকাশ্যে কথা বলাকে অনেকটাই ট্যাবু হিসেবে দেখা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে :
১. প্রতি মাসে কমপক্ষে ৩ দিন দেশের ৪০ শতাংশ মেয়ে পিরিয়ডের কারণে স্কুলে যেতে পারে না। একই কারণে প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন শিক্ষিকারাও।
২. পিরিয়ডজনিত জটিলতায় প্রতি মাসে গড়ে ৬ দিন করে কাজে অনুপস্থিত থাকেন গার্মেন্টসে কর্মরত নারীরা।
৩. পিরিয়ডের সময় পরিচ্ছন্নতার অভাবে দেশের ৯৭ শতাংশ নারীর কোন না সময়ে সার্ভিক্যাল ইনফেকশনের সমস্যা হয়ে থাকে। গ্রামাঞ্চলে গর্ভজনিত জটিলতার শিকার হয় লাখ লাখ নারী।
৪. পিরিয়ডকে প্রাপ্তবয়স্কতায় লক্ষণ ধরা হয়। ফলে পিরিয়ড শুরু হওয়ার ১ থেকে ৪ বছরের মধ্যে দেশের ৬৮ শতাংশ নারীর বিয়ে হয়ে যায়।
৫. জরিপে দেখা গেছে, দেশের মাত্র ১৪ শতাংশ নারী পিরিয়ডের সময় স্যানিটারী ন্যাপকিন ব্যবহার করে।
বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে আলাপ-আলোচনার সুযোগ না থাকায় এ সম্পর্কে সঠিক কোন ধারণা পায় না নারীরা। শুরু থেকেই ভুল আর কুসংস্কার ভরা তথ্য পেয়ে আসে। যে কারণে প্রথম প্রথম পিরিয়ডের সময় মেয়েরা একে অসুখ মনে করে ভয় পায়। একাকিত্বে ভোগে।