ফরিদপুরে কবর দেয়ার আগে কেঁদে ওঠা সেই নবজাতক গালিবা হায়াতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল থেকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। গালিবা হায়াতের বাবা স্থানীয় ক্রিকেটার নাজমুল হুদা মিঠু ও মা নাজনীন আক্তার।
প্রসঙ্গগত, গত বুধবার রাতে দিকে শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়। জন্মের দেড় ঘণ্টা পর শিশুটিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন সকাল ৬টার দিকে শহরের আলীপুর কবরস্থানে দাফন করার সময় শিশুটি কেঁদে ওঠে। পরে তাকে ফের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
শিশুর দাদা আবুল কালাম মিয়া বলেন, ফরিদপুরের চিকিৎসকরা বৃহস্পতিবারই গালিবা হায়াতকে ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু আমাদের আর্থিক অবস্থা ভাল না থাকায় নিতে পারিনি।
তিনি বলেন, শনিবার দুপুরে ঢাকার এক ব্যক্তি (নাম প্রকাশের ইচ্ছুক নন।) শিশুর চিকিৎসার ব্যয় বহন করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তার সহযোগিতায় বিকেলে হেলিকপ্টারে শিশুকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
এদিকে গালিবা হায়াতকে বিদায় জানাতে শত শত মানুষ হাসপাতাল ও স্টেডিয়ামে ভিড় করে। শিশুর সাথে তার বাবা নাজমুল হুদা মিঠুসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ঢাকায় এসেছেন।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির খোঁজ-খবর নেন এবং হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন।
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের শিশুবিশেষজ্ঞ খোন্দকার মো. আবদুল্লাহ হিস সায়াদ বলেন, ‘শিশুটিকে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেয়ার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'শিশুটি ২৪ সপ্তাহে জন্ম নেয়ায় তার ওজন হয়েছে ৭০০ গ্রাম—এ কারণেই ঝুঁকি রয়েছে। তবে ভাল পরিচর্যা পেলে সুফল পাওয়া যেতে পারে।'
জানা গেছ, বুধবার রাতে শহরের কমলাপুর এলাকার নাজমুল হুদার স্ত্রী নাজনীন আক্তার (২৩) প্রসব বেদনা নিয়ে ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালে সিট না থাকায় তাকে দেখতে চাননি চিকিৎসক। এরপর হাসপাতালের ডক্টরস রুমের বেডেই রাত আড়াইটার দিকে ভূমিষ্ট হয় শিশুটি।
সেখানে গাইনি চিকিৎসক ডা. রিজিয়া আলম শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে একটি কার্টন বা ব্যাগ এনে শিশুটিকে নিয়ে যেতে বলেন। তার কথামতো একটি কার্টন এনে পরিবারের লোকজন শিশুটিকে আলীপুর কবরস্থানে নিয়ে যান। সেখানে তখন দাফনের ব্যবস্থা না হওয়ায় একটি কবরের ওপর শুইয়ে রাখেন।
বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোরে দাফন করতে গেলে শিশুটি কেঁদে ওঠে। পরে তাকে ফের হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়।
এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় শিশুটির স্বজন ও শহরের সচেতন মানুষ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনে তার বিচার চান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তে শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ডা. মোস্তাফিজুর রহমান শামীমকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তিনদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।