সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিস প্রায় দেড়মাসেরে বেশি সময় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সাভারের সিআরপিতে সোমবার নেয়া হয়েছে।
দীর্ঘ চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে শনিবার মুক্তি দেয়ার কথা জানান হাসপাতালটির চিকিৎসকরা।
ও্ই দুপুরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ সম্মেলনে খাদিজার সুস্থতা ও সার্বিক অবস্থা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরে।
সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা বলেন, আপনাদের দোয়ায় সুস্থ আছি, ভালো আছি—দোয়া করবেন যেন ভালো থাকি আর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারি।
হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, খাদিজা এখন সুস্থ দরকার ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা তাই আজকের মধ্যেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হবে।
এমসি কলেজে পরীক্ষা শেষে বের হলে ক্যাম্পাসেই সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম। ওসমানি মেডিকেল কলেজে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শেষে ওইদিন রাতেই হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা আনা হয় তাকে।
ভর্তি করা হয় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। চাপাতির আঘাতে মাথা ও হাত গুরুতর জখম হওয়ায় কয়েকদফা অস্ত্রোপচার করা হয়, রাখা হয় নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে। চলতি মাসের ১৭ তারিখে তার ডান হাতে আবার ও অস্ত্রোপচার করা হয়। ক্রমান্বয়ে সুস্থ হতে থাকেন তিনি। আইসিইউ থেকে স্থানান্তর করা হয় কেবিনে।
খাদিজার সবশেষ অবস্থা জানাতে শনিবার দুপুরে হাসপতাল কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে হুইল চেয়ারে করে হাজির হন খাদিজা। ধন্যবাদ জানান দেশবাসীকে।
পরে তার চিকিৎসকরা জানান, খাদিজা বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন যেকোনো সময় তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হবে।
উল্লেখ, গত ৩ অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজ কেন্দ্রে স্নাতক পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে হামলার শিকার হন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক (পাস কোর্স) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথার খুলি ভেদে করে মস্তিষ্কও জখম হয়।