সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ির ত্রিপুরাপাড়ায় টিকাদান কর্মসূচিতে কর্তব্য অবহেলার অভিযোগে স্বাস্থ্য বিভাগের ছয় মাঠকর্মীকে বদলি করা হয়েছে। বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাদের বদলি করে চট্টগ্রামের সন্দীপ উপজেলার দুর্গম উরকির চরে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে এ-সংক্রান্ত বদলি আদেশটি সই করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন।
সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে সীতাকুণ্ডের ছয় মাঠকর্মীকে ডিজির (মহাপরিচালকের) নির্দেশে বদলি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে।
সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরাপাড়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে নয় শিশু মারা যায়। সর্বশেষ গত বুধবার চার শিশুর মৃত্যু হয়। ওই দিনই ত্রিপুরাপাড়া থেকে জ্বর ও শরীরে লালচে গোটায় আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অজ্ঞাত রোগে তারা আক্রান্ত বলে দাবি করা হয়। পরে গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, তারা হামে আক্রান্ত।
ত্রিপুরাপাড়ার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সেখানে কখনো টিকা দেয়া হয়নি। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এর আগে 'অজ্ঞাত রোগে' নয় শিশু মারা যায়। পরে নয় শিশুর মৃত্যুর কারণ হাম বলে নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ রোগে আক্রান্ত হয় অন্তত ৭০ জন।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সম্মেলনে কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, মৃত ও আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা হামের জীবানু দ্বারা সংক্রমিত হয়েছিলো। একইসঙ্গে এসব শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছিল। এ কারণে সংক্রমণ একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক বলেন, আক্রান্ত ত্রিপুরা পাড়ার ৮৫টি পরিবারে ৩৮৮ জন মানুষ বসবাস করে। সম্প্রদায়ের নেতার পরামর্শ, আদেশ ও উপদেশ মেনে তারা জীবনযাপন পরিচালনা করেন। তারা কোনোদিন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নেয়নি। সেখানের শিশুদের কোনোদিন কোনো ধরনের টিকাও দেয়া হয়নি।