রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের ছোড়া ‘কাঁদানে গ্যাসের শেলের’ আঘাতে আহত সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র মো. সিদ্দিকুর রহমানের চোখের আলো ফিরে পাওয়ার আশা ক্ষীণ।
শনিবার সকালে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার দুই চোখে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরাএ কথা বলেন।
হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ইফতেখার মনির বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার শুরু হয়ে দেড় ঘণ্টা ধরে দুই চোখ অস্ত্রোপচার হয়েছে। সিদ্দিকুর রহমানের ডান চোখের ভেতরের অংশ বের হয়ে এসেছিল তা যথাস্থানে বসানো হয়েছে। বাঁ চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; রক্ত ছিল, তা পরিষ্কার করা হয়েছে।
ইফতেখার মনির আরও বলেন, সিদ্দিকুর রহমানের চোখের আলো ফিরে আসার সম্ভাবনা কম— বাকিটা পরে বলা যাবে।
হাসপাতালের পরিচালক ড. গোলাম মোস্তফা বলেন, তার দুই চোখের অপারেশন করা হয়েছে, দুটো চোখেই মারাত্বক ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, তাকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে, ও ৫ সদস্যের মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তবে তার ডান চোখের অবস্থা খুবই খারাপ, আলো ফিরে পাওয়া খুবই কম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়া রাজধানীর সাত সরকারি কলেজ ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা রুটিনসহ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন।
একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। তাদের লাঠিপেটাও করা হয়। ওই দিন পুলিশের ‘কাঁদানে গ্যাসের শেলের’ আঘাতে আহত সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র মো. সিদ্দিকুর রহমান আহত হন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগ থানায় ১২০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
এজাহারে শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমানের আহত হওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, মিছিলকারীদের ছোড়া ফুলের টবের আঘাতে তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মো. সিদ্দিকুর রহমানের (২৩) দুই চোখ জখম হয়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা ব্যানার নিয়ে শাহবাগ থেকে কাঁটাবনমুখী সড়কে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করছিলেন ওই সময় পুলিশের সদস্যরা গিয়ে তাদের ব্যানার কেড়ে নেয়। এক পুলিশ সদস্য দৌঁড়ে গিয়ে খুব কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়েন। এরপরই সিদ্দিকুর রহমান মাটিতে পড়ে যান।