বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার মুক্তামনির ৪র্থ দফায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার অপারেশন শুরু হয়ে শেষ হয় সকাল ১০টায় তাকে এখন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, অপারেশন হাতে চামড়া লাগানোর জন্য যদিও আজ চামড়া লাগানো হয়নি আজকের অপারেশনটি চামড়া লাগানোর প্রি-স্টেজ (পূর্বের স্তর)। নতুন চামড়া লাগানোর জন্য মুক্তামনির হাতটি উপযুক্ত করা হয়েছে, এটা তার সুস্থ হওয়ার প্রথম ধাপ সে এখন ভালো আছে।
আগামী মঙ্গলবারে পরবর্তী ধাপে করা হবে, কয়েকটি ধাপে তার পুরো হাতে চামড়া লাগানো হবে বলে জানান তিনি। এ জন্য আরও ২/৩টি অপারেশনের প্রয়োজন হবে। প্রথমবার স্কিন গ্রাফটিংরে ১০ দিন পর পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। তবে আমরা তাড়াহুড়া করে কিছু করবো না যা কিছু করবো ধীরে ধীরে জানান ডা. সামন্ত লাল সেন।
ঢামেক হাসপাতারের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক আবুক কালামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের দল মুক্তামনির স্কিন গ্রাফটিংয়ের কাজ করেছেন।
সাতক্ষীরার ১১ বছরের মেয়ে মুক্তামনি ‘লিমফেটিক ম্যালফরমেশন’ রোগে আক্রান্ত। এই রোগের কারণে তার এক হাত ফুলে গিয়ে দেহের চেয়েও ভারী হয়ে ছিল। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হওয়ার পর গত ১১ জুলাই মুক্তামনিকে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন মুক্তামনি লিমফেটিক ম্যালফরমেশন বা রসবাহী নালির বিকলাঙ্গতা রোগে আক্রান্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে সরকারি খরচে তার চিকিৎসা চলছে। মুক্তামনির হাতে গত ১২ আগস্ট প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয়।