নেপালের কাঠমাণ্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটির প্রধান বৈমানিক আবিদ সুলতানের শোকার্ত স্ত্রী আফসানা খানমের অবস্থা সংকটাপন্ন।
আফসানার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও ওই হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম।
সোমবার বিকেলে ডা. বদরুল বলেন, আফসানা খানম ব্রেন স্ট্রোক করার পর রোববার সকালে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে তার চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববার দুপুরে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। রাত ১১টায় দিকে আবারও তার ব্রেন স্ট্রোক হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আবারও তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর থেকে তাকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
গত রোববার ভোরে স্টোকের পর তাকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সকালে আবারো তিনি স্টোক করেন।
ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক বদরুল আলম বলেন, তিনি এখন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন। ৭২ ঘণ্টা না গেলে কিছু বলা যাচ্ছে না— তার চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে কাজ করা হচ্ছে।
গত সোমবার দুপুরে ঢাকা থেকে যাত্রা করা ইউএস-বাংলার ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফটটি কাঠমান্ডু ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারালে তা রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে চার ক্রুসহ উড়োজাহাজের ৭১ জন আরোহীর মধ্যে দুর্ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৪০ জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও ৯ জন।
দুর্ঘটনায় নিহত ৫১ জনের মধ্যে ২৬ জনই বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে পাইলট আবিদ সুলতানসহ বিমানের চার ক্রুও রয়েছেন।
পাইলট আবিদ সুলতান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন। বিমান বাহিনীতে মিগ-২১ চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল তার। বিমান বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে পাইলট হিসেবে যোগদান করেন তিনি।