রাজধানীর পল্লবীর মুসলিমবাগ এলাকায় একটি বাড়ির পানির রিজার্ভ ট্যাঙ্কে বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে বাড়ির মালিকের স্ত্রী হাসিনা খানম বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে দগ্ধ তিন বছরের শিশু রুহি একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর ডি ব্লকের ১৯ নম্বর রোডের ৪৩ নম্বর বাড়িতে পানির রিজার্ভ ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের সময় জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরিত হয়।
এ সময় বাড়ির মালিক ইয়াকুব আলী খান (৭০), তার স্ত্রী হাসিনা খানম (৬০), ভাড়াটে ইয়াসমিন আক্তার (২৭), তার শিশু মেয়ে রুহি (৩) ও মিস্ত্রি মাহবুব হাসান (৩২) দগ্ধ হন।
ইয়াকুব আলী বলেন, সকালে আমার বাসার নিচতলার রিজার্ভ ট্যাংকের ঢাকনা খুলে পরিষ্কার করতে যায় হাসান। ভেতরে অন্ধকার থাকায় কিছু দেখা যাচ্ছিল না। এজন্য ও আগুন জ্বালালে সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ধরে যায়। এতে আমরা ৫ জন দগ্ধ হই।
হাসিন আরা খানমের ভাই মো. মারুফ হোসেন বলেন, বাড়ির নিচের পানির ট্যাংক পরিষ্কারের জন্য হাসান নামের এক শ্রমিককে নিয়ে আসা হয়। ট্যাংকের মুখ খুলে টর্চলাইট জ্বেলে পানি আছে কি না, দেখছিলেন সবাই। ভালো মতো দেখা যাচ্ছিল না বলে মোমবাতি আনা হয়। মোমবাতি জ্বালানোর জন্য আগুন ধরাতেই বিস্ফোরণ ঘটে। দগ্ধ হন সবাই। বাড়ির লোকজন প্রথমে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক এনায়েত কবির জানান, দগ্ধ পাঁচ জনের অবস্থায় আশঙ্কাজনক। শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। ইয়াকুবের ২৫ শতাংশ, হাসিন আরা খানমের ৯৫ শতাংশ, ইয়াসমিনের ৪১ শতাংশ, রুহির ৯০ শতাংশ ও হাসানের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।