স্বাস্থ্য

চকবাজার ট্র্যাজেডি: দগ্ধ ২ জনের মৃত্যু

চকবাজার ট্র্যাজেডি
চকবাজার ট্র্যাজেডি

চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের ভর্তি দুইজন মঙ্গলবার মারা গেছেন।

চুড়িহাট্টায় অগ্নিদগ্ধ আনোয়ার হোসেন ও সোহাগ পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে করে হার মানলেন।

এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৬৯ জনে দাঁড়ালো।

গত বুধবার অগ্নিকাণ্ডের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে আরও সাতজনের সঙ্গে তারাও ভর্তি ছিল।

আইসিইউতে থাকা রোগীদের মধ্যে রেজাউলের (২১) শরীরের ৫১ শতাংশ, জাকিরের (৩৫) শরীরের ৩৫ শতাংশ, মোজাফফরের (৩২) শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়েছে।

ওয়ার্ডে থাকা হেলালের (১৮) শরীরের ১৬ শতাংশ, সেলিমের (৪৪) শরীরের ১৪ শতাংশ, মাহমুদুলের (৫২) শরীরের ১৩ শতাংশ এবং সালাহউদ্দিনের (৪৫) শরীরের ১০ শতাংশ পুড়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান।

বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেন, সোমবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারের মৃত্যু হয়। এরপর রাত দেড়টার দিকে মারা যান সোহাগ।

আগেই চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, ৫৫ বছর বয়সী আনোয়ার আর ২৫ বছর বয়সী সোহাগ- দুজনেরই দেহের ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

রিকশাচালক আনোয়ারের বাবার নাম আলী হোসেন। তার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার রায়নগর গ্রামে। কামরাঙ্গীরচরের ছাতা মসজিদের পূর্বপাশে স্ত্রী হাজেরা বেগম এবং তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন আনোয়ার।

একমাত্র মেয়ে বীথির আবদারে তার জন্য বিরিয়ানী কিনতে সেদিন চকবাজারে গিয়ে আগুনের মধ্যে পড়েছিলেন আনোয়ার। পরিবারে আনোয়ারই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

আগুনের ক্ষত নিয়ে চিকিৎসাধীন বাকি সাতজনের খবর জানতে চাইলে ডা. সামন্ত লাল বলেন, একজনও আশঙ্কামুক্ত নন।

তিনি বলেন, কেমিক্যালের বার্ন কোনো সময় সুপারফিশিয়াল বার্ন হয় না ডিপ বার্ন হয়, এই রোগীদের সবারই শ্বাসনালী পুড়ে গেছে।

শিল্পমন্ত্রী শুরুতে এ অগ্নিকাণ্ডের জন্য গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণকে দায়ী করেন।

তবে তদন্তকারীরা বলেন, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের আলামত তারা পাননি। গুদামের রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থ থেকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে মনে করছেন তারা।

অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিস ৬৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

তার মধ্যে ৪৮ জনের মরদেহ শনাক্ত করার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।

বাকিদের শনাক্ত করার জন্য তাদের সম্ভাব্য স্বজনদের ডিএনএ নমুনা নিয়েছে সিআইডি।

এদিকে, পুরান ঢাকা থেকে সব রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরিয়ে ফেলতে হবে আগামী মাসে, অর্থাৎ মার্চের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অভিযান পরিচালনা করবে জাতীয় টাস্কফোর্স। এই অভিযানে কোনো ভবনে দাহ্য পদার্থের কোনো কারখানা বা গুদাম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ভবনের সব সেবা–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক কেমিক্যাল কারখানা ও গুদাম সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে আয়োজিত সমন্বয় সভায় গতকাল সোমবার এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সমন্বয় সভায় মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি টাস্কফোর্স কাজ শুরু করবে। ম্যাজিস্ট্রেটরা আইনগতভাবে কাজ শুরু করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক কারখানার অস্তিত্ব পাওয়া গেলে তাঁরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

একদিনে রেকর্ড ৮৫৭ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে, মৃত্যু ২

করোনায় চারজনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩৪৬

ঢাকার পর ডেঙ্গু বেশি কক্সবাজারে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

করোনায় দুইজনের মৃত্যু, শনাক্ত ৪৫৬

করোনায় দুইজনের মৃত্যু, শনাক্ত ৪৬০

‼️ আপনাদের থেকে একটা সাহায্য দরকার ‼️‼

করোনায় একজনের মৃত্যু, শনাক্ত ৪০৯

ডেঙ্গুতে আরও দুই মৃত্যু, হাসপাতালে ৩৪৪ জন

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ