ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা নরেন্দ্র মোদি। বলা যায়, কংগ্রেসের একদশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় জাতীয় পার্টিকে (বিজেপি) আবারো ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনেন তিনিই। হিন্দু মৌলবাদীদের কাছে তিনি যেমন আদর্শ নেতা, তেমনি প্রগতিশীলদের কাছে তার পরিচয় চরমপন্থী হিসেবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গুজরাটের সুশাসন-উন্নয়নে তার ভূমিকা যেমন প্রশংসিত, তেমনি গুজরাট দাঙ্গার ক্রীড়নক হিসেবেও নিন্দিত তিনি।
ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় বসেছে এমনটি এবারই প্রথম নয়। কিন্তু এবার দল বা জোট নয় সব তর্কবিতর্ক, আলোচনা-সমালোচনা ও নিন্দাস্তুতির ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেন নরেন্দ্র মোদি। যাকে বিজেপি-জোট প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী করে নির্বাচনে নেমেছিল এবং শেষমেশ তাকে ঘিরে বিপুল বিজয়ও তুলে নিল।
এর মাধ্যমে ভারতের ভোটাররা দেশ শাসনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব তুলে দিচ্ছেন একজন বিতর্কিত নেতার হাতে। নরেন্দ্র মোদি হিন্দুত্ববাদের একজন চরম কর্মী-সমর্থক ও উগ্র মৌলবাদী রাজনীতিক।
‘সংঘ পরিবার’ বা হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপির মাতৃ-সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-আরএসএস-এর সক্রিয় সদস্য ‘প্রচারক’ হয়েই মোদি ডানপন্থী রাজনীতির পাঠ নিয়েছিলেন। তবে গুজরাটে টানা তিন মেয়াদের সফল মুখ্যমন্ত্রী হয়ে দলের অন্যসব বাঘা বাঘা নেতাদের পেছনে ফেলেই উঠে এসেছেন তিনি। দুনিয়ার বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যার শপথগ্রহণ এখন শুধু ক্ষণগণনা মাত্র।
১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর উত্তর গুজরাটের মেহসানায় খুব সাধারণ পরিবারে জন্ম তার। চা বিক্রেতা বাবার ৪ সন্তানের মধ্যে মোদি তৃতীয়।
আরএসএস-এর সঙ্গে যোগাযোগ শুরুর পর আত্মনিষ্ঠা আর দৃঢ় মনোবলের কারণে সহজেই কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসেন মোদী। এরপর ১৯৭১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন সংঘে।
আশির দশকে বিজেপির গুজরাট ইউনিটের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হওয়ার মধ্যদিয়েই রাজনীতির মূলধারায় মোদির প্রবেশ।
১৭ বছর বয়সে যশোদাবেন নামে এক নারীকে বিয়ে করেন তিনি। এতোদিন সে খবর কেউ জানতো না। বরং চিরকুমার পরিচয়েই রাজনীতি, দল ও রাজ্যশাসনে নিজেকে ত্যাগী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন মোদি নিজেকে।
২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে রাজ্যকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করার কাজ শুরু করেন। রাজ্যের ব্যাপক উন্নয়নের জন্যও ভারতময় প্রশংসিত মোদি।
তবে ২০০২ সালে গুজরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধলে যেন তার স্বরূপ প্রকাশ পায়। কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তার নীরব ভূমিকা দাঙ্গা আরো উসকে দেয়। যে কারণে ২ হাজারেরও বেশি মুসলমানকে হত্যার অভিযোগ ওঠে তাকে জড়িয়ে, তার পদত্যাগের দাবি ওঠে সর্বত্র।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়, যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণেও তিনি কালো তালিকাভূক্ত। কিন্তু দল বিজেপিতে তিনি আরো জনপ্রিয় হন।
এভাবেই গুজরাট থেকে তার দিল্লির পথে যাত্রা। বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ধীরে ধীরে তাকে দলের ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ করে।
এক গুজরাট রাজ্যের উন্নয়ন আর সুশাসনের সাফল্য তাকে নিয়ে যায় প্রধানমন্ত্রীত্বের দৌঁড়ে। এক দশক ক্ষমতার বাইরে থাকা বিজেপিও স্বপ্ন দেখে মোদীর ওপর ভর করে দিল্লির মসনদে বসার।