লোকসভা নির্বাচনে জয়ের দ্বারপ্রান্তে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন (বিজেপি) এনডিএ জোট। তারা বলছে, এ বিজয় তাদের জন্য হবে নতুন যুগের সূচনা। ক্ষমতাসীন কংগ্রেস এর মধ্যে পরাজয় মেনে নেয়ার কথা ঘোষণা দিয়েছে।
লোকসভা নির্বাচনে ‘ভারতের জয় হয়েছে’ মন্তব্য করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি।
শুক্রবার এ নির্বাচনের ভোট গণনা চলাকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন তিনি। ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি এ কথা নিশ্চিত করেছে।
টুইটারে মোদি লিখেছেন, ভারতের জয় হয়েছে! এটা ভারতের বিজয়। এখানে শিগগিরই সুদিন আসবে। টুইট করার আগে মোদি গুজরাটের গান্ধীনগরের বাড়িতে গিয়ে তার মা হিরাবেনের (৯৫) আশীর্বাদও নিয়েছেন।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এদিকে, এএফপির খবরে জানানো হয়, নয়াদিল্লিতে দলের প্রধান কার্যালয়ে বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা প্রকাশ জাভাদেকার বলেন, এটি পরিবর্তনের শুরু, গণমানুষের একটি বিপ্লব এবং নতুন যুগের সূচনা।
নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণার আগেই পরাজয় মেনে নিয়েছে কংগ্রেস জোট। নয়াদিল্লিতে দলের প্রধান কার্যালয়ে কংগ্রেস নেতা ও মুখপাত্র রাজীব শুক্লা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পরাজয় মেনে নিচ্ছি। আমরা বিরোধীদলে বসতে রাজি।’
তিনি আরো বলেন, মোদি জনগণের কাছে আকাশের চাঁদতারা এনে দেয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। জনগণ সেই স্বপ্ন লুফে নিয়েছে।
জয়ের পর বিজেপি ভারতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো ও দুর্নীতি দমন করার অঙ্গীকার করেছে। গত ৩০ বছরের মধ্যে এবার বিজেপি প্রথমবারের মতো লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হতে যাচ্ছে। গত এক দশকের মধ্যে কংগ্রেস এবার নির্বাচনে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে।
ভারতে বছরের পর বছর ধরে চলা দুর্নীতি, অর্থনীতির ধীর গতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে সুস্পষ্ট হতাশা থেকেই নির্বাচনে ফলাফলের মোড় ঘুরে গেছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি ৯ আসনে বিজয়ী হয়েছে। আর এগিয়ে আছে ২৭৮টি আসনে।
অন্যদিকে কংগ্রেস ১টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং ৪১ আসনে এগিয়ে আছে। নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি বারানসি ও ভাদোদরা— এ দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে বারানসিতে তার প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন আম আদমি পার্টির প্রার্থী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।