দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ প্রথমবারের মতো বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা পাঁচ কোটি ছাড়িয়েছে। এসব মানুষের মধ্যে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছে।
শুক্রবার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে ২০১৩ সালের তথ্য দিয়ে ‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস’ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। নিজস্ব তথ্যের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করে ইউএনএইচসিআর।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৩ সালের শেষে পালাতে বাধ্য হওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা পাঁচ কোটি ১২ লাখে পৌঁছে, যা ২০১২ সালের চেয়ে ৬০ লাখ বেশি।
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ২৫ লাখ মানুষ শরণার্থী ও ৬৫ লাখ মানুষের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা এ সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সেন্ট্রাল আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র এবং দক্ষিণ সুদানে বাস্তুচ্যুতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শরণার্থীদের সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান, সিরিয়া ও সোমালিয়া। এ তিনটি দেশের শরণার্থীর সংখ্যা বিশ্বের মোট শরণার্থীর অর্ধেকের বেশি। পাকিস্তান, ইরান ও লেবাননেও অন্যান্য দেশের তুলনায় শরণার্থীর সংখ্যা বেশি।
অঞ্চলের দিক দিয়ে এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে শরণার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি; যা প্রায় ৩৫ লাখ। আর সাব-সাহারান আফ্রিকান অঞ্চলে এ সংখ্যা ২৯ লাখ। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ২৬ লাখ।
শরণার্থীদের মধ্যে ১১ লাখ লোক অন্য দেশে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছে। আবেদনকারীদের মধ্যে এগিয়ে সিরিয়া। দেশটির ৬৪ হাজার ৩০০ লোক অন্য দেশে আশ্রয় চেয়েছে। এর পরেই রয়েছে কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (৬০ হাজার ৪০০ জন) এবং মিয়ানমার (৫৭ হাজার ৪০০ জন)।
আশ্রয়প্রার্থীরা বেশির ভাগই আশ্রয় চেয়েছেন উন্নত দেশগুলোতে। এ ক্ষেত্রে জার্মানি এগিয়ে। এ দেশেই সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
এ ছাড়া মা-বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে—এমন ২৫ হাজার ৩০০ শিশুও আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছে।
স্থানীয়ভাবে বাস্তুচ্যুত লোকের সংখ্যা তিন কোটি ৩৩ লাখ।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার অ্যান্টোনিও গুটেরেস বলেন, ‘যুদ্ধের সমাপ্তি না টানা এবং সংঘর্ষ প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ায় আমরা এখানে অপরিমেয় ক্ষতি দেখতে পাচ্ছি।’