নিজস্ব সংস্কৃতির লালন, কঠোর নিয়মনীতি আর সুদূর প্রসারী পরিকল্পনাই ভিত গড়ে দিয়েছে চীনের অর্থনীতির। এর উপর দাড়িয়েই চীন স্বপ্ন দেখছে ২০১৬ সালের মধ্যে বিশ্বের এক নম্বর অর্তনীতিতে পরিণত হওয়ার। যে গতিতে তাদের অর্থনৈতিক আকার ও প্রবৃদ্ধি বাড়ছে তাতে সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে যথেষ্টই আত্মবিশ্বাসী দেশটির সাধারণ মানুষ। কেন্দ্রীয় সরকার আরোপিত কঠোর নিয়মনীতির ফলে কিছুটা কষ্ট হলেও তা মেনে নিয়েছে জনসাধারণ। কারণ তাদের বিশ্বাস এর মধ্যেই নিহত চীনের উন্নয়নের মূলমন্ত্র।
১৩০ কোটি মানুষের বিশাল জনগোষ্ঠীই চীনের মূল সম্পদ। কেন্দ্রীয় সরকারের দেখানো পথে এ সব মানুষজনের মেধা আর কঠোর পরিশ্রমে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সবদিকেই চীনকে পৌঁছে দিচ্ছে সমৃদ্ধির শিখরে।
চীনের মোট দেশজ উৎপাদন প্রায় সাড়ে ১৩ ট্রিলিয়ন ডলার। যা বিশ্বে আমেরিকার পরে দ্বীতিয় সর্বোচ্চ। কিছুটা মন্দা অবস্থা স্বত্ত্বেও চলতি বছরের প্রথমার্ধে জিডিপির প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭.৫%। মাথাপিছু আয়ও বিশ্বে প্রথম সারিতেই। প্রায় ১০ হাজার ডলার। চীনের সাধারণ মানুষজন মনে করে কেন্দ্রীয় সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও কঠোর নিয়মনীতিই চীনকে দ্রতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
নিজেদের স্থিতিশীলতার ব্যাপারে আপসহীন চীনের নিয়মনীতি এতটাই কঠোর যে সেখানে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুক, গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনসহ বিদেশি প্রায় সব ধরনের ইন্টারনেট সেবাই নিষিদ্ধ।
৭০’ দশকে নেয়া দেশটির এক সন্তান নীতির কারণে জনসংখ্যাও পুরোপোরি নিয়ন্ত্রণে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রেখে চীন অর্থনীতির বিস্তৃতি ঘটিয়েছে ব্যাপক হারে। জ্ঞান-বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি, শিল্প, কৃষি কিংম্বা সেবা। সব ক্ষেত্রেই চীনের অগ্রগতির গতি দেশটিকে নিয়ে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে।
এ সবই হয়েছে দেশটির নিজস্ব সংস্কৃতিকে সঙ্গে নিয়েই। তবে এখানেই থেমে থাকতে নারাজ তারা। স্বপ্ন দেখছে ২০১৬ সালের মধ্যেই বিশ্বের এক নম্বর অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের।