ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সপ্তম দিনের মতো সোমবার ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। আল জাজিরা টেলিভিশনের অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজায় নির্বিচারে চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭২ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছে সহস্রাধিক। হতাহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বেসামরিক মানুষ। হাজার হাজার মানুষ গাজা ছাড়তে শুরু করেছেন।
এদিকে, ছয় দিনের টানা বিমান হামলার পর গত শনিবার দিবাগত রাতে গাজায় স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি কমান্ডোরা। জঙ্গি বিমানের সহায়তায় তারা গাজার উত্তরাংশে ঢুকে পড়ে।
প্রাণে বাঁচতে হলে গাজাবাসীকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র সরে পড়তে বলে ইসরায়েল। জীবন বাঁচাতে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ জাতিসংঘের শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।
সোমবার ভোরে হামাসের সামরিক শাখার তিনটি প্রশিক্ষণ স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তবে এই হামলায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া গাজা সিটির বিভিন্ন ভবন ও গাজার একাধিক এলাকায় হামলা হয়েছে। এতে অজ্ঞাত সংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছেন।
গত ৮ জুলাই ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সর্বশেষ এই হামলা শুরু হয়। সম্প্রতি ইসরায়েলি তিন কিশোরকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার সূত্রপাত। ইসরায়েল এ জন্য হামাসকে দায়ী করলেও তারা তা অস্বীকার করে। পরে ফিলিস্তিনি এক কিশোর একইভাবে অপহরণ ও হত্যার শিকার হওয়ার পর উত্তেজনা নতুন মোড় নেয়।
গাজা থেকে রকেট ছোড়া হচ্ছে—এ অভিযোগ তুলে ইসরায়েল গত মঙ্গলবার ‘অপারেশন প্রটেক্টিভ এজ’ নামের অভিযান শুরু করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ইসরায়েলি নিহত হয়নি। তবে কয়েকজন আহত হওয়ার দাবি করেছে তেল আবিব।
হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দফায় দফায় আহ্বান জানানো হলেও কোনো সাড়া দিচ্ছে না ইসরায়েল।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল বলেন, জানি না এ অভিযান কবে শেষ হবে।