ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইসরায়েলি জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গাজায় হামলা চলবে। রোববার টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী গাজায় অভিযান অব্যাহত রাখার এ ঘোষণা দেন।
এমনকি হামাসের তৈরি করা টানেলগুলো ধ্বংস করার পরেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় অভিযান চালাবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন নেতানিয়াহু।
এদিকে, নিখোঁজ ইসরায়েলি সেনা হাদার গোলডিন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। তারা বলছে, তারা মোটামুটি নিশ্চিত যে লেফটেন্যান্ট গোলডিন মারা গেছে। তবে হামাস বলছে, হাদার গোলড্নি নামে ওই নিখোঁজ ইসরায়েলি সেনা সদস্য কোথায় আছে বা তার কি হয়েছে- এ সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
সংবাদ সম্মেলনে হামাসকে হুঁশিয়ারি জানিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলে আক্রমণ করার অপরাধে হামাসকে ‘দুঃসহ মাশুল’ দিতে হবে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আশায় মিশরের কায়রোতে যে আলোচনা চলছে নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সেই আশা একেবারেই শূন্যে মিলিয়ে গেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এর জবাবে হামাস বলছে, তাদের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারাও তাদের লড়াই চালিয়ে যাবে। গাজার চারদিকে ইসরায়েলের যে অবরোধ আছে, তা তুলে নেওয়ার দাবি হামাসের।
এদিকে, গাজায় জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সেখানকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
জাতিসংঘের কর্মকর্তা ক্রিস গুয়েনেস বলেন, গাজার চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়েছে। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস হয়ে গেছে এবং চল্লিশ শতাংশের বেশি চিকিৎসাকর্মী অক্ষম হয়ে পড়েছেন।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যাকায় ২৭ দিনের ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা ১৭০০ ছাড়িয়েছে। এদের মধ্যে চারশো শিশু এবং দুই শতাধীক নারী রয়েছেন।
গত শুক্রবার ৭২ ঘন্টার যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে হামলা পাল্টা হামলা চলাকালে নিখোঁজ এক ইসরায়েলি সেনার খোঁজ চলাকালে এ বিবৃতি দেন তিনি। হামাস ২৩ বছর বয়সী হাদার গোল্ডিন নামের ওই সেনাকে অপহরণের পর হত্যা করেছে বলে দাবি করছে ইসরায়েল।
তবে হামাসের দাবি ইসরায়েলি বিমান হামলাতেই ওই সেনা নিহত হয়েছে।