পশ্চিম আফ্রিকায় প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচও বিশেষজ্ঞদের দুই দিনব্যাপী বৈঠক শেষে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান চ্যান- এএফপি
ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচও বিশেষজ্ঞদের দুই দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর শুক্রবার এ ঘোষণা দেয়া হয়। খবর এএফপির।
এরইমধ্যে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি, লাইবেরিয়া, নাইজেরিয়া এবং সিয়েরা লিয়নে ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণে এক হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।
ইবোলা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ায় এরইমধ্যে লাইবেরিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার 'ইবোলার সংক্রমণ অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়েছে' মর্মে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের এক ঘোষণার পর বিশ্বব্যাপী এ জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিল ডব্লিউএইচও।
সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ বন্ধ ও আন্তর্জাতিকভাবে এর ছড়িয়ে পড়া রোধে একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক সাড়া প্রয়োজন।'
একইসঙ্গে ইবোলা আক্রান্ত দেশগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলোকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। তবে ওই দেশগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।
এর আগে ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে নেয়া পদক্ষেপ 'নিতান্তই অপর্যাপ্ত' বলে মন্তব্য করেন ডব্লিএইচও প্রধান মার্গারেট চ্যান। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভাইরাসটি ব্যাপক আকারে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির বমি, ডায়রিয়া ও রক্তক্ষরণ হয়। এছাড়া এটি কিডনি ও যকৃতে জটিলতার সৃষ্টি করে। সংক্রমণের পর রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে। ঊচ্চমাত্রার ছোঁয়াচে এই ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয়নি।
থুথু ও ঘামের মাধ্যমেও এ ভাইরাস ছড়াতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
প্রাথমিকপর্যায়ে আক্রান্তদের ৯০ শতাংশই মারা যাচ্ছিলেন। তবে বর্তমানে তা কমে ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।