ভারতের 'দস্যুরানী' খ্যাত উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির সাবেক সাংসদ ফুলন দেবী হত্যা মামলায় শের সিং রানাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টের বিচারক ভারত পরাশর এ রায় দিয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অন্য ১০ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।
এর আগে গত ৮ আগস্ট শুক্রবার আদালত রানাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে সেদিন তার শাস্তি ঘোষিত হয়নি।
বিগত ২০০১ সালের ২৫ জুলাই অশোক রোডের সরকারি বাসভবনের বাইরে ফুলন দেবীকে গুলি করে হত্যা করে তিন জন মুখোশধারী।
পুলিশ জানায়, ফুলনের নেতৃত্বে তার লোকজন বেহমাই গণহত্যায় উচ্চবর্ণের লোকজনকে হত্যা করেছিল। এর প্রতিশোধ নিতেই হত্যা করা হয় ফুলনকে।
ফুলন হত্যার পর আত্মসমর্পণ করলেও ২০০৪ সালে তিহার জেল থেকে পালিয়ে যান শের সিং রানা। তিনি পালানোর পর আফগানিস্তানের কান্দাহার চলে গেছেন বলে গুজব রটলেও ২০০৬ সালে কলকাতা থেকে রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গত ২০১২ সালে রানার কারাবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা আত্মজীবনী 'জেল ডায়েরি, তিহার সে কান্দাহার তক' প্রকাশিত হয়। ওই বছরই তিনি উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং হেরে যান।
এককালের ডাকাত দলের নেত্রী ও পরে বিরোধী সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফুলন দেবী ১৯৯৬ সালে মধ্যপ্রদেশ থেকে দলিতদের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দস্যুজীবন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন ১৯৯৬ সালে। পরে 'বান্ডিট কুইন' নামে একটি সিনেমা নির্মিত হয় তাকে নিয়ে।