পাকিস্তানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ রাজধানী ইসলামাবাদের সরকারি বাসভবন ছেড়ে লাহোরে পারিবারিক বাসভবনে গেছেন। রোববার বার্তা সংস্থা পিটিআই এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ইসলামাবাদে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ আজও অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল শনিবার রাতে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চার শতাধিক ব্যক্তি। সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় সারাদেশে শোক দিবস পালনের করেছে পিটিআই ও এমকিউএম।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিক্ষোভকারীরা সকালে জড়ো হয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হতে চেষ্টা করে।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও লাঠিপেটা করে পুলিশ। বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে।
পুলিশি বর্বরতার অভিযোগ তুলে নওয়াজ ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের হুমকি দিয়েছেন পিটিআই দলের প্রধান ইমরান খান।
তিনি বলেছেন, নওয়াজ সরকারের সময় ফুরিয়ে গেছে।
পিএমএলের (এন) একটি সূত্র বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেছে, বিক্ষোভকারীদের ভয়ে গত শুক্রবার ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছেড়ে লাহোরের বাসভবনে গেছেন নওয়াজ। ব্যক্তিগত কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে গেছেন।
নওয়াজের ভাই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও সেখানে বাস করেন। লাহোরেও নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।
সূত্রটি জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের না সরানো পর্যন্ত ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ফিরবেন না নওয়াজ। এ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে শরিফ ও তার পরিবারের সদস্যরা সড়কপথে ভ্রমণ করবেন না।
প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের দাবিতে ১৫ দিন ধরে আন্দোলন করছে ইমরান খানের দল পিটিআই ও ধর্মীয় নেতা তাহির-উল-কাদরির দল পিএটি। দুই সপ্তাহ ধরে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ইসলামাবাদের সুরক্ষিত রেড জোনে। এরই মধ্যে সরকারের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আলোচনা চলছিল।
গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে রেড জোন থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হতে কর্মী-সমর্থকদের নির্দেশ দেন ইমরান ও কাদরি। পুলিশ প্রথমে বাধা না দিলেও একপর্যায়ে গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় সংঘর্ষ বেধে যায়। ইট-পাথর ছুড়তে থাকে বিক্ষোভকারীরা। এর মধ্যেই এগোতে থাকেন পিটিআই ও পিএটির কর্মী-সমর্থকেরা।
রাত দুইটার দিকে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট কমপ্লেক্সের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে পৌঁছে যায়। তখন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মধ্য থেকে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।