পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে মঙ্গলবার থেকে দেশটির পার্লামেন্টে শুরু হয়েছে যৌথ অধিবেশন। আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত এ অধিবেশন চলবে বলে জানা গেছে।
অধিবেশনটি যৌথভাবে পরিচালনা করছেন স্পিকার এনএ আইয়াজ সাদিক এবং সিনেটের চেয়ারম্যান নাইয়ার বুখারি।
মঙ্গলবার দুপুরে শুরু হওয়া অধিবেশনে বিভিন্ন দলের সাংসদ ছাড়াও যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। বিক্ষোভকারীদের পদত্যাগ দাবি উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী পদ ধরে রাখতে সাংসদদের সমর্থন সংগ্রহের জন্যই নওয়াজ এ অধিবেশন আয়োজন করেছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এখনো উত্তপ্ত রাজধানী ইসলামাবাদ। আন্দোলনকারীরা এখন পাকিস্তানের সেক্রেটারিয়েট ভবন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও পিটিভির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছেন।
দেশের রাজনৈতিক ইস্যুতে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা পিটিআই কখনোই সমর্থন করে না— বলেন দলের চেয়ারম্যান ইমরান খান। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ না করা পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণাও দেন তিনি।
আবার সরকারের পতনের দাবিতে এখনো অটল পাকিস্তান আওয়ামী তেহিরক (পিএটি) দলের নেতা তাহির-উল-কাদরি। হত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে নওয়াজকে পদত্যাগ করতে হবে সোচ্চার পাকিস্তানের এ বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা।
এ দুই বিরোধী নেতার সঙ্গে সরকারের আলোচনার চেষ্টা আগেই ভেস্তে গেছে।
এদিকে, সেনাবাহিনী সরকারবিরোধী এ আন্দোলন 'মদদ' দিচ্ছে বলে যে খবর প্রচার করা হচ্ছে, তা অস্বীকার করেছে সেনাবাহিনী। বরং তারা এই আন্দোলনকে 'অরাজনৈতিক' আখ্যা দিয়েছে।
চলমান সংসদ অধিবেশনের সিদ্ধান্তের ওপর অপেক্ষা করছে বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের গতিপথ। সবাই এখন তাকিয়ে আছেন সেদিকেই।
তবে গতকাল নওয়াজ সাফসাফ জানিয়ে দেন, কোনো আন্দোলনের মুখে তিনি পদত্যাগ করবেন না। বরং গণতন্ত্র রক্ষার্থে তিনি যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদের যৌথ অধিবেশন ডাকা হয়।