ভারতের সারদা গ্রুপের অর্থ বাংলাদেশে সন্ত্রাস-নাশকতার কাজে জামাতকে দেয়া হয়েছে— এ গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। এ ব্যাপারে একযোগে তদন্ত করবে ঢাকা-দিল্লি।
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের যে বৈঠক হয়েছে তাতে এ ঐকমত্য পোষণ করেছে বলে খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জামাতের সঙ্গে সারদার যোগাযোগ এবং বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য অর্থ যোগান দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ পরামর্শক কমিশনের বৈঠকে যোগ দিতে চার দিনের ভারত সফরে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
বাংলাদেশে নাশকতা, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সারদা গ্রুপ বিপুল পরিমাণ অর্থ, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ আহমেদ হাসান ইমরানের মাধ্যমে জামাতে ইসলামিকে সরবরাহ করেছে- গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশ হয়। এরপর নয়াদিল্লির কাছে এ ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্য চেয়েছে ঢাকা।
বৈঠকে সারদা-জামাত যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদানে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত। 'সারদা গ্রুপের' বিপুল পরিমাণ অর্থ ওই তৃণমূল সাংসদের মাধ্যমে বাংলাদেশের জামাতকে দেয়া হয়েছে –এ ব্যাপারে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকায় উভয়দেশ একযোগে ঘটনাটি তদন্ত করতে একমত হয়েছে।
সারদার অর্থ কীভাবে জামাতের কাছে পৌঁছালো, কী পরিমাণ অর্থ দেয়া হলো এবং যেসব জামাত নেতা এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে তাদেরকে খুঁজে বের করতে উভয় দেশই তদন্ত করবে।
এদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো-সিবিআই এ ঘটনার তদন্ত করছে। সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না কে দোষী। তদন্তের একটি যৌক্তিক পরিণতির পরই এ ব্যাপারে কথা বলা যাবে।