সন্ত্রাস বিরোধী সহযোগিতা ও জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ তৎপরতা চালানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্ক সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৯০ মিনিটের বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ সময় দুই নেতা বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করেন বলে জানিয়েছেন ভারতের এক পররাষ্ট্র কর্মকর্তা।
ওয়াশিংটনের ওভাল দপ্তরে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে, বাণিজ্য থেকে শুরু করে মহাকাশ অভিযান, জলবায়ু পরিবর্তন, মধ্যপ্রাচ্যে আইএস জঙ্গিদের হুমকি ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। দুই পক্ষের আলোচনায় সন্ত্রাসবাদ বড় ধরনের উদ্বেগ হিসেবে আলোচিত হলেও আইএসের বিরুদ্ধে ওবামার জোটে ভারতের যোগ দেয়ার বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে কোনো পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়নি।
বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মোদি বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রকৃতিগতভাবেই একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্বে ভিত্তি রয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে এ ব্যাপারে তার বিশ্বাস জোরালো হয়েছে।
বৈঠকে তারা সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে কথা বলেন। তাদের আলোচনায় আরো স্থান পায় দক্ষিণ এশিয়ার সন্ত্রাসবাদ এবং পশ্চিম এশিয়ার নতুন সন্ত্রাসী হুমকির বিষয় দুটিও।
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দাসহ বিভিন্ন সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হন দুই দেশের সরকার প্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান। তারা সন্ত্রাসীদের নিরাপদ স্বর্গগুলো ধ্বংস করার বিষয়েও আলোচনা করেন।
তবে আইএসের বিরুদ্ধে ওবামার জোটে ভারতের যোগ দেয়ার বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে কোনো পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভারতীয় কমকর্তরা।
সামদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র।
এশিয়ায় চীনা নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে এ সমঝোতা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নিউইয়র্ক ভারতীয় কূটনীতিককে গ্রেপ্তার করা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক ফের সচল করে তুলতে কাজ শুরু করেছেন দুইনেতা।
এছাড়া, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সমারিক পরিকল্পনা কর্মসূচি আরো দশ বছর বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করতেও একমত হয়েছেন তারা।