জঙ্গি-হামলার আশঙ্কায় কলকাতা বন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবস্থা জারি করা হয়েছে। উপকূলেও বাড়ানো হয়েছে টহলদারি। কলকাতা বন্দরে জঙ্গিরা হামলা চালাতে পারে এমন তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এ সতর্কবার্তা পাওয়ার পরই ওই এলাকার নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেয়।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক জল সীমানায় নজরদারির পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের উপকূলবর্তী থানাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় পর্যটকদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা সোমবার রাতে ই-মেইলে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ), রাজ্য ও কলকাতা পুলিশকে জঙ্গি হামলার সতর্কবার্তা পাঠায়।
ই-মেইলে বলা হয়, ৪ থেকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে কলকাতা বন্দরে ২৬/১১-র মুম্বাই হামলার ধাঁচে নাশকতা চালাতে পারে জঙ্গিরা। কয়েকটি জঙ্গিসংগঠন রাজ্যের উপকূল সীমানা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে৷ যে কোনও সময় বড় নাশকতা ঘটে যেতে পারে। এই তথ্য গোয়েন্দারা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানায়। পশ্চিমবঙ্গকে সতর্ক থাকতে বলা হয়।
এদিকে, নাশকতার আশঙ্কায় কলকাতার নিরাপত্তা আঁটসাঁট করা হয়েছে। উপকূলের থানাগুলিতে সোমবার রাতেই সতর্কবার্তা চলে আসে। মঙ্গলবার সকাল থেকে পুলিশের স্পিডবোটে সাগর ও নদীতে টহলদারি চালাতে থাকে।
জানা গেছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সিআইএসএফ, নৌবাহিনী, উপকূল বাহিনী, কলকাতা ও রাজ্য পুলিশ সমন্বয়ভাবে কাজ করছে।
এদিকে, বুধ ও বৃহস্পতিবার আই এন এস কুকরি ও আই এন এস সুমিত্রা এ দুটি যুদ্ধজাহাজ প্রদর্শনীর জন্য খিদিরপুর ডকে আনা হয়েছিল। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম ও পথশিশুদের জাহাজগুলি ঘুরিয়ে দেখানোর পর নৌবাহিনীর তরফ থেকে ‘অপারেশনাল’ কারণে প্রদর্শনী বন্ধ রাখার কথা বলা হয়।
যদিও কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, জঙ্গি নাশকতার আশঙ্কার জন্য আপাতত এই প্রদর্শনী বন্ধ রাখা হয়েছে।