আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের কপালে গুলি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নেভি সিল কমান্ডো রবার্ট ও’নিল।
গত ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে লাদেনের গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাকে হত্যা করে মার্কিন নেভি সিল কমান্ডো বাহিনী।
গতকাল বৃহস্পতিবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় ৩৮ বছর বয়সী এ সাবেক কমান্ডোর পরিচয়ের সঙ্গে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে লাদেনের গোপন আস্তানায় অভিযান চালানো মার্কিন কমান্ডো দল নেভি সিলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন মন্টানার বাসিন্দা ও’নিল।
ও’নিল দাবি করেন, ওসামার শয়নকক্ষের অভিযানে থাকা দলটির দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন তিনি। তার সামনে থাকা সিল সদস্যের ছোড়া গুলিটি লক্ষভেদে ব্যর্থ হয়। তাকে পাশ কাটিয়ে ও’নিল দেউড়িতে আসেন। শয়নকক্ষের ভেতরে ওসামা দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলেন। তার দুই হাত ছিল এক নারীর কাঁধে। ওই নারীকে তিনি সামনে ঠেলে দিচ্ছিলেন।
ও’নিলের দাবি, কক্ষটি অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকা সত্ত্বেও অন্ধকারে দেখার মতো যান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তিনি ওসামাকে পরিষ্কারভাবে চিনে নিতে পারেন এবং গুলি করেন। তার ছোড়া গুলিতে আল-কায়েদাপ্রধানের মাথার খুলি ফেটে যায়। নিহত হন ওসামা।
ও'নিল ২০১২ সালে নেভি সিল বাহিনী থেকে অবসর নেন। এর আগে পরিচয় গোপন করে এক ম্যাগাজিনকে তিনি এ বিষয়ে কিছু তথ্য জানালেও এবারই প্রথম পরিচয় দিলেন।
তবে লাদেককে গুলি বিষয়ে ও'নিলের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেননি বিসোনেট। গতকাল এনবিসি নিউজ চ্যানেলকে বিসোনেট বলেন, ‘'দু'জন ভিন্ন মানুষ দু'টি ভিন্ন কারণে দু'টি ভিন্ন গল্প বলেছেন। তিনি (ও'নিল) যা বলার বলেছেন, আমি তা স্পর্শ করতে চাই না।’
নেভি সিল কমান্ডোর সদস্যরা সাধারণত তাদের পেশাগত বিষয়ে খুবই নিরবতা অবলম্বন করেন। নেভি সিল কমান্ডোদের আচরণবিধি অনুযায়ী তারা কোনো অভিযানের বিশেষ অর্জন নিয়ে কৃতিত্ব দাবি করেন না।
তবে লাদেনকে গুলি করা নিয়ে এমন পাল্টাপাল্টি দাবির পরও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এগুলোর কোনোটিকেই স্বীকৃতি দিচ্ছে না। আবার পেন্টাগন এসব দাবির কোনোটিকে অস্বীকার করছে না।
অ্যাবোটাবাদে লাদেনের লুকিয়ে থাকা ওই বাড়িতে অভিযানের সময় প্রচণ্ড অন্ধকার থাকায় এবং পাল্টাপাল্টি এসব দাবির কারণে লাদেনকে যে আসলে কে গুলি করেছিল তা নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।