সন্ত্রাসবাদের বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ মঙ্গলবার অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিসের (আইইপি) প্রকাশ করা ২০১৪ সালের বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচকে (জিটিআই) এ তথ্য উঠে এসেছে।
এটি আইইপির দ্বিতীয় প্রতিবেদন। ২০১২ সালে প্রথমবার বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক প্রকাশ করে আইইপি।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৩টি দেশে সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়েছে— বলেও তথ্য প্রকাশ করে এ প্রতিষ্ঠানটি। এ সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক ২০১৪’ অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ৫ দশমিক ২৫ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ রয়েছে ১২৪টি দেশের তালিকার ২৩ নম্বরে।
১০ স্কোর নিয়ে এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইরাক, যেখানে গতবছর ৬ হাজার ৩৬২ জন নিহত হয়েছেন জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের হাতে।
ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিসের দাবি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কারণে গত বছর ইরাকই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, গতবছর বিশ্বে কেবল সন্ত্রাসের প্রাবল্যই বাড়েনি, এর বিস্তারও বেড়েছে।
২০১৩ সালে বিশ্বে সন্ত্রাসের বলি হয়েছে ১৮ হাজার মানুষ, যা আগের বছরের তুলনায় ৬১ শতাংশ বেশি। এই এক বছরে প্রায় ১০ হাজার সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ বা সংঘাতে জড়িয়ে নেই এমন ১৩ দেশও রাজনৈতিক সহিংসতা ও দলগত বিদ্বেষের কারণে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ঝুঁকিতে আছে।
দেশগুলো হলো- অ্যাঙ্গোলা, বাংলাদেশ, বুরুন্ডি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, আইভরি কোস্ট, ইথিওপিয়া, ইরান, ইসরায়েল, মালি, মেক্সিকো, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও উগান্ডা।
২০১২ সালের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গতবছর প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক ২০১৩’- এ সন্ত্রাস ও সহিংস ঘটনার বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬২টি দেশের মধ্যে ৫৭ নম্বরে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামাতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০১৩ সালের প্রায় পুরোটা সময় ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতা ও হানাহানি চলে।
জামাতকর্মীরা একদিকে দেশজুড়ে নাশকতা চালায় এবং অন্যদিকে নির্বাচন ঠেকাতে জামায়াত-বিএনপি জোটের হরতাল অবরোধে সহিংসতায় বহু মানুষ হতাহত হয়।
ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস মনে করছে, বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা-নিপীড়নের পাশাপাশি নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, দলগত সমঝোতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব রয়েছে। এ কারণেই ১৩ দেশের ঝুঁকির তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে সংস্থাটি।
গত বছর জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যেসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তার বেশিরভাগই ঘটেছে মাত্র পাঁচটি দেশে- ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া ও সিরিয়ায়।
আর অধিকাংশ ঘটনার পেছনে ছিল ইসলামী স্টেট, আল কায়েদা, তালেবান ও বোকো হারামের মতো জঙ্গি সংগঠন। বেসামরিক নাগরিক ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিই এসব সংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রধান লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস এর নির্বাহী চেয়ারম্যান স্টিভ কিল্লেলিয়া এক বিবৃতিতে বলেন, গত বছর প্রাণহানি বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল সিরিয়ার অস্থিতিশীলতা, যার শুরুটা হয় ২০১১ সালে।
“সিরিয়ার সেই অস্থিরতা এখন ইরাক ছাপিয়ে গেছে। আমাদের মনে হয়েছে সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থানের শুরুটা সেখানেই।”
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের এই বিস্তারের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি কারণের কথাও বলেছে ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস।
সংস্থাটি মনে করছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ‘রাষ্ট্রীয় মদদে সহিংসতা’, দলগত ক্ষোভ ও ক্ষমতাধরদের দুর্নীতি সন্ত্রাস বেড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
দারিদ্র্য, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়ার হার কিংবা অর্থনীতির অধিকাংশ সূচকের সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির কোনো যোগাযোগ সংস্থাটি খুঁজে পায়নি।