পাকিস্তানের পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে তেহরিক-ই-তালেবান জঙ্গিদের হামলায় ১০০ শিশুসহ ১৩৬ জন নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে ১২২ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর গুলি বিনিময় চলছে। এরইমধ্যে স্কুল ভবন থেকে বেশ কয়েকজন জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
জঙ্গি সংগঠনটির এক মুখপাত্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তালেবানদের পরিবার লক্ষ্য করে সেনাবাহিনীর হামলার জবাব এটি। এরইমধ্যে ঘটনাস্থলে গেছেন প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরীফ। এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি এটিকে জাতীয় দুর্যোগ আখ্যায়িত করেছেন। তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রধান ইমরান খানও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের পেশোয়ারে ওয়ারসাক রোডে সেনাবাহিনী পরিচালিত এ স্কুলে সেনাসদস্য ও বেসামরিক নাগরিকদের ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৬শরও বেশি শিশু সকালেই অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিকভাবেই শুরু করে কার্যক্রম। ক্লাশে ক্লাশে শুরু হয়েছিল পাঠাদান।
নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করছে, স্কুলটির বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তালেবান জঙ্গিদের হটিয়ে তাদের কবল থেকে স্কুলটিকে মুক্ত করতে অভিযান চলছে। সেখানে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। এরইমধ্যে ৫ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়ে সেনাবাহিনী।
জানা গেছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে পেশওয়ারের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত আর্মি পাবলিক স্কুলে প্রবেশ করে কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। তাদের মধ্যে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীও ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্কুলে ঢুকেই এলোপাতাড়ি গুলি করতে শুরু করে জঙ্গিরা। এতে ঘটনাস্থলেই হতাহত হয় শিক্ষার্থীসহ অনেকেই।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় সকালে সামরিক পোশাক পরা ৫/৬ জন জঙ্গি স্কুলে ঢুকে পড়ে। তারা স্কুলের ভেতরে ৫ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে।
সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্কুল ভবন থেকে বেশ কয়েকজন জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেখানে কতজন জিম্মি রয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে জানা যায়নি। স্কুলের শিশুদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে জঙ্গিরা।
এ হামলার কিছুক্ষণ পরই ঘটনার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানের তেহরিক-ই-তালেবান। জঙ্গি সংগঠনটির এক মুখপাত্র জানিয়েছে, তালেবানদের পরিবার লক্ষ্য করে সেনাবাহিনীর হামলার জবাব এটি। তিনি বলেন, ৬ জন হামলাকারীকে স্কুলের শুধুমাত্র বড় শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জঙ্গি হামলার খবর পেয়ে এরইমধ্যে ছুটে গেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরীফ। এ ঘটনায় ৩ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন তিনি।
এর আগে এক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি একে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ উল্লেখ করেছেন।