পাকিস্তানে নিরীহ মানুষদের ওপর তালেবান জঙ্গিদের হামলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। তাদের বোমা হামলায় অসংখ্য মানুষের মৃত্যু প্রায় নিত্য দিনের খবর। জঙ্গিদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না স্কুলের নিষ্পাপ শিশুরাও। স্কুল শিক্ষার্থী মালালার ওপর তালেবান জঙ্গিদের হামলা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল। তবে এবার পেশোয়ারের স্কুলে এ জঙ্গি গোষ্ঠীর বর্বরতা ছাড়িয়ে গেছে সব নির্মমতাকে।
পাকিস্তানে তালেবানদের নিরীহ মানুষ হত্যা প্রায় প্রতিদিনের খবর। লোকালয়,বাজার, চার্চ এমনকি মসজিদে বোমা ফাটিয়ে নিরপরাধ মানুষ হত্যা করে তালেবানরা। তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা স্কুলের শিশুরাও। মালালার ঘটনা সবারই জানা।
লেখাপড়া করতে চায়, এ অপরাধে ২০০৭ সালে দেশটির সোয়াত ভ্যালিতে তালেবান হামলার শিকার হন মালালা ইউসুফজাই। মাথায় গুলি লাগার পরও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তিনি। নারী শিক্ষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকার জন্য এবার শান্তিতে নোবেল পেলেন মালালা।
এবার পেশোয়ারে স্কুলের ঘটনা যেন হার মানালো সব নির্মমতাকে। তালেবানদের বর্বরতায় নিভে গেলো ১৩২টি শিশুসহ ১৪১ জনের জীবন। যারা বেঁচে গেল তাদের সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়াবে ধর্মের নামে এ বর্বরতার দুঃসহ স্মৃতি।
বেঞ্চের নীচে লুকিয়েও রেহাই পায়নি তারা। ‘আল্লাহু আকবার’ বলে গুলি চালাতে থাকে জঙ্গিরা। হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ এক শিক্ষার্থী সংবাদ মাধ্যমের কাছে বর্ননা দিয়েছে সেই বিভীষিকাময় মুহুর্তগুলোর।
দুই পায়েই হাঁটুর নিচে গুলি লাগায় খুব যন্ত্রণা হচ্ছিল তার। তবু জীবন বাঁচাতে মারা যাওয়ার অভিনয় করে বেচে যায় সে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পালাতে গিয়ে জ্ঞান হারায়।
এর আগে দেখেছে সতীর্থদের অনেক মৃতদেহ। দেখেছে রক্ত ঝরছে এমন অবস্থায় স্কুলের এক মহিলা অফিস কর্মীর গায়ে আগুন জ্বলতে। এ আহত স্কুল বালকের মতো আরো ১৩১ শিক্ষার্থীর অনেকেই এখন লড়ছে মৃত্যুর সঙ্গে।
এদিকে, স্কুল শেষে সন্তানকে নিয়ে যেতেন যে বাবা সেই বাবাকে নিতে হলো ১৪ বছরের আবদুল্লাহর মরদেহ।
কেন এ মৃত্যু? কেন এ রক্তপাত? কেন জঙ্গিদের এ রক্ত পিপাসা? তবে শিগগিরই জঙ্গিদের এ রক্ত লালসার অবসান ঘটবে, প্রত্যাশা সবার।