পাকিস্তানে নির্মমভাবে হত্যাযজ্ঞে প্রাণে বেঁচে যাওয়া নবম শ্রেণির একমাত্র শির্ক্ষাথী হলো দাউদ ইব্রাহিম। হারাধনের ১০ ছেলেদের গল্পটা যে এত ফলে যাবে, হয়ত কেউ সেটা বুঝতেই পারেনি!
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় পেশোয়ারে সেনাবাহিনীর পরিচালিত স্কুলে তালেবানের হামলায় নবম শ্রেণির উপস্থিত সব শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। ঘটনার দিন স্কুলে না আসায় বেঁচে গেছে শুধু একজন।
পাকিস্তানের ‘দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’ পত্রিকার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৫ বছর বয়সী সৌভাগ্যবান ওই শিক্ষার্থীর নাম দাউদ ইব্রাহিম। সকলাবেলা ঘড়ির সংকেত কাজ না করায় সেদিন তার স্কুলে যাওয়া হয়নি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যে পত্রিকাটি জানায়, আগের দিন সোমবার রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিল দাউদ। পরদিন মঙ্গলবার সে একটু বেশি ঘুমিয়েছিল। সকালে ঘড়ির সংকেত কাজ করেনি। সময়মতো ঘুম থেকে উঠতে না পারায় ওই দিন সে স্কুলে যেতে পারেনি। সৌভাগ্যক্রমে রক্ষা পেয়েছে তার প্রাণ। সে যেন তার বন্ধুদের দাফন দেখতে বেঁচে আছে।
বড় ভাই সুফিয়ান ইব্রাহিম বলেন, ‘এটা নিয়তি। তার ক্লাসের কেউ বেঁচে নেই। তাদের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে।’
সুফিয়ান জানান, এক দিনে ছয়জন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর দাফনে অংশ নিয়েছে দাউদ। সে এখন চুপ হয়ে গেছে। কারও সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলছে না।
গত মঙ্গলবার পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে ৫০০ জন শিক্ষার্থী ছিল। তালেবানের হামলায় তাঁদের মধ্যে ১৩২ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১২৫ জন। এ ছাড়া এই হামলায় নয়জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীও নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই মারা যায় আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণে। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে সব হামলাকারী নিহত হয়। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) হামলার দায় স্বীকার করেছে। সূত্র: ডন.কম