চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্টে সাইবার হামলার জের ধরে উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
শনিবার বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার তিনটি প্রতিরক্ষা কোম্পানিসহ সরকারের দশজন ব্যক্তির ওপরে এই নিষেধাজ্ঞা এসেছে। নিষেধাজ্ঞার জবাবে উত্তর কোরিয়ার কোনও প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে, সনি পিকচার্স-এ হামলার অভিযোগ তারা শুরু থেকেই নাকচ করে এসেছে।
উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচির ওপর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা নিয়ে কোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা সম্ভবত এটাই প্রথম বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরান ও রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে তা হবে না।
৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বৈরী এ রাষ্ট্রটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এমনটি মনে করছেন তারা।
বিষয়টি এমন নয় যে, তারা পশ্চিম ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই ভ্রমণ করেন। পশ্চিমা ব্যাংকগুলোতেও তাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার নেই, বলেছেন ওয়াশিংটনের জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির ইউএস কোরিয়া ইনস্টিটিউটের জোয়েল উইট।
নিষেধাজ্ঞা জারির পর হোয়াইট হাউজ বলেছে, উত্তর কোরিয়ার ‘উস্কানিমূলক, অস্থিরতা সৃষ্টিকারী ও দমনমূলক আচরণের’ জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে গুপ্ত হত্যা চেষ্টার গল্প নিয়ে একটি কমেডি সিনেমা তৈরি করে সনি পিকচার্স। ‘দ্য ইন্টারভিউ’ নামের এই ছবিটি ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু তার আগেই নভেম্বরের শেষদিকে সনি পিকচার্স বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়। এতে ঘোষিত তারিখে ছবিটি মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে সনি।
এ সাইবার হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে উত্তর কোরিয়া।
উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ‘দি রিকনেইসেন্স জেনারেল ব্যুরো’, অস্ত্র ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ‘ দ্য কোরিয়া মাইনিং ডেভেলপমেন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন’ (কমিড), প্রতিরক্ষা গবেষণার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘কোরিয়া টানগুন ট্রেডিং কর্পোরেশন’-এর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে অস্ত্র ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান কমিডের রাশিয়া ও ইরান প্রতিনিধি এবং সিরিয়ায় কর্মরত তাদের দুই কর্মকর্তা রয়েছেন।