শ্রীলংকায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে কার্যদিবসের প্রথম দিনে দেশটির নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা মন্ত্রিসভা গঠনের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছেন। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবারের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে শ্রীলংকায় টানা দু-বারের প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকষেকে ধরাশয়ী করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশটির সপ্তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন তিনি।
৬৩ বছর বয়সী মাইথ্রিপালা সিরিসেনা ছিলেন রাজাপাকষের ঘনিষ্ট সহযোগীদের একজন। আর তাই গত নভেম্বরে প্রার্থীতা ঘোষণার পর রাজাপাকষের সমর্থকরা সিরিসেনাকে বিশ্বাসঘাতক বলতে দ্বিধা করেনি।
সিংহলীদের প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিত মধ্য-উত্তর শ্রীলংকার এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম সিরিসেনার। ছোটবেলা থেকেই সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। ১৯৮১ সালে সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল শ্রীলংকা ফ্রিডম পার্টির পলিটব্যুরোতে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক উত্থান শুরু। ১৯৮৯ সালে পার্লামেন্ট সদস্য হন। দল ও সরকারের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৮ সালে তামিল টাইগারদের হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি। তবে সে যাত্রায় বেচে যান।
গত নভেম্বরে প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজাপাকষে সরকারের সমালোচনা শুরু করেন সিরিসেনা।
শুক্রবার শপথ গ্রহণের পর থেকেই মন্ত্রিসভা গঠনের তোরজোড় চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শনিবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে কার্যদিবসের প্রথম দিনে দেশে গণতান্ত্রিক সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কমিয়ে আনারও অঙ্গীকার করেছেন তিনি।