দিল্লিতে ঝাড়ু ঝড়, বুথ ফেরত সমীক্ষায় আগেই ইঙ্গিত ছিল জয়ের। তবে এতোটা অভাবিত বিজয় হয়তো আশা করেননি স্বয়ং অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। মাত্র ৯ মাস আগে অভূতপূর্ব সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রে সরকার গঠন করেছিল বিজেপি। এবার বিধানসভা নির্বাচনে তাদের আসন সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩-এ আর কংগ্রসের ফলাফল শূন্য।
বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি-বিরোধী ভোটগলো কোনো আনুষ্ঠানিক জোট ছাড়াই ঝুলিতে পুরতে পেরেছেন কেজরিওয়াল। আর কংগ্রেসের ধারবাহিক অবক্ষয় ক্রমশ শক্তি বৃদ্ধি করেছে কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির।
এবার দিল্লির রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টি সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল বিজেপি বিরোধীদের কোনো আনুষ্ঠানিক জোট ছাড়াই একাট্টা করতে সক্ষম হয়েছেন।
এদিকে, কেজরিওয়ালের এ সাফল্য এসেছে কংগ্রেসের দুর্বলতায়। দিল্লির মানুষ বিজেপির বিকল্প হিসেবে কংগ্রেস নয়, গ্রহণ করেছে আম আদমি দলকে।
লোকসভা নির্বাচনে মোদির বদৌলতে বাড়তি জনসমর্থন এবারের নির্বাচনে ধরে রাখতে পারেনি বিজেপি। মোদি সরকারের ৯ মাসের কাজের খতিয়ান এই ভোটের ফলাফলে রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য কিছু কারণে একবছরের মধ্যে ফের দিল্লির তখতে ফিরে এলেন আম আদমি দল এবং কেজরিওয়াল। সেগুলো হলো:
দিল্লির রাজনীতিতে কেজরিওয়ালের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, ভুলের জন্য জনসাধারণের কাছে ক্ষমা চেয়ে নির্বাচনী প্রচার তিন চার মাস আগে থেই শুরু করে দিয়েছিলেন কেজরিওয়াল। বড় সমস্যাকে প্রাধান্য না দিয়ে স্থানীয় ছোট ছোট সমস্যাকেও গুরুত্ব দেন তিনি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার অদম্য প্রবণতা তার, বিদ্যুৎ ও জলের কর কমিয়ে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন কেজরিওয়াল। কংগ্রেসের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া।
আর বিজেপির ভুলগুলোকে সামনে এনে তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে কেজরিওয়াল শুধু নিম্নবর্গ নয়, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন। মানুষ তাকে আবারও ভোট দিয়ে ফিরিয়ে আনে ক্ষমতায়।