ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদির ক্ষমতা গ্রহণের পর এই প্রথম তার সঙ্গে দেখা করতে গেলেন তিনি।
সোমবার দিল্লিতে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেন মমতা।
পরে সাংবাদিকদের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এসময় রাজ্যের ঋণ মওকুফের দাবির বিষয়টি তিনি ভেবে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
এছাড়া তিস্তার পানিবন্টন চুক্তি ও একশো দিনের কাজের প্রকল্প নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন মমতা। প্রথম দফায় দুজনের একান্তে ২০ মিনিট কথা হয়। পরে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, রাজ্য সরকার যেভাবে কাজ করছে তাতে খুশি প্রধানমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী সমস্যা সমাধানের চেষ্টার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ দিন সংসদ ভবনে তার ঘরে মমতার সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন মোদি। মিনিট কুড়ির ওই বৈঠক নিয়ে এ দিন দুপুর পর্যন্ত প্রকাশ্যে কিছু বলেননি মমতা। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে থেকেও এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। এই বৈঠকের পরই মমতা সংসদের লাইব্রেরির কনফারেন্স রুমে যান। সেখানে তখন তার জন্য অপেক্ষা করেন তৃণমূল সাংসদেরা। কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌঁছান মোদি। দু’পক্ষের বেশ কিছুক্ষণ বৈঠক হয়। বৈঠক থেকে বেরিয়ে মমতা বলেন, বাংলার আর্থিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রীকে কী জানান মুখ্যমন্ত্রী?
মমতার দাবি অনুযায়ী, ২০১১-র মে মাসে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগেই রাজ্যের বিপুল পরিমাণ ঋণ ছিল। কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় এক লাখ কোটি টাকা সেই বাবদ কেটে নিয়েছে। এতো টাকা ধারশোধ করতে গিয়ে চলে গেলে রাজ্য কীভাবে চলবে? এতে রাজ্য সরকারের কোনও ত্রুটি নেই। এই সরকার ধারও করেনি। আগের বামফ্রন্ট সরকার ওই ঋণ করেছিল। তারা এফআরবিএম মেনেও চলেনি। এই সরকার এফআরবিএম মেনে চলছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক শৃঙ্খলাও তৈরি হয়েছে। এমনকী, রাজস্বের পরিমাণও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২১ হাজার কোটি টাকা থেকে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুরো টাকা কেন্দ্র ছিনিয়ে নিলে রাজ্য চলবে কেমন ভাবে! গরিবের উন্নয়ন, রাস্তাঘাট তৈরি, ১০০ দিনের কাজ কী ভাবে হবে? মমতা বলেন, তাই প্রধামন্ত্রীর কাছে আমরা ঋণ মকুবের অনুরোধ জানিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী কী বললেন?
মমতার দাবি অনুযায়ী, মোদি সব শুনেছেন। তারপর তিনি জানিয়েছেন, এটা সত্যি যে দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ঋণ সবচেয়ে বেশি। এই পরিস্থিতিতেও রাজ্য খুব ভাল কাজ করছে। তারা অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা মেনে চলছে। এমন ভাবে চললে আগামী দিনেও ভাল কাজ হবে। বিভিন্ন রাজ্যের কারণে কেন্দ্রের ঘাড়েও ঋণের বোঝা কম নয়। তবে মিলেমিশে এই সমস্যার সমাধান বের করা যায় কি না সে চেষ্টার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সম্মানে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের দেয়া নৈশভোজে মোদি-মমতা প্রথম সাক্ষাৎ হয়। সেদিক দিয়ে দু’জনের এই নিয়ে দ্বিতীয় বার মুখোমুখি হওয়া। কিন্তু, রাজ্যের দাবিদাওয়া নিয়ে এই প্রথম মোদির মুখোমুখি হলেন মমতা। যা নিয়ে এ দিন তৃণমূলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সম্পাদক তথা রাজ্যসভার সাংসদ মুকুল রায় জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দেখা করবেন এটা গণতন্ত্রের পক্ষে স্বাস্থ্যের লক্ষণ। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় এটাই পরম্পরা। যদিও তার মতে, রাজ্য সরকারের ইতিমধ্যেই চার বছর কেটে গিয়েছে। হাতে আর একটা বছর আছে। প্রধামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ঋণ মকুবের বিষয়টা ন’মাস আগে বললে রাজ্যবাসী উপকৃত হত। তার দাবি, পশ্চিমবঙ্গ এক বছর পিছিয়ে গেল। এর পরেই মুকুল বলেন, বেটার লেট দ্যান নেভার। রাজ্যে যে সঠিক অর্থে শিল্পায়ন হচ্ছে না, এ দিন সে অভিযোগও তোলেন তিনি।
গত মে মাসে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে মোদী সরকার। কিন্তু তার পর নয় মাসেরও বেশি কেটে গেলেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করেননি মমতা। ঘোষিত ভাবে যে কারণে এ দিন মোদীর সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন, রাজ্যের সেই ঋণ মকুবের প্রসঙ্গেও এত দিন দু’জনের কোনও কথা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মমতা শুভেচ্ছাও জানাননি মোদিকে। সূত্র আনন্দ বাজার।