নেপালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ১৯০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ৫ হাজার মানুষ। ধ্বংসস্তুপের মধ্যে এখনো আটকা পড়ে আছে অনেকে। হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে ক্রমেই। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার জরুরি অবস্থা জারি করেছে।
দুর্গত মানুষের সাহায্যের জন্য ভারত এরইমধ্যে ৩ টন ত্রাণ ও ৪০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে। ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল ও জরুরি ত্রাণ সামগ্রীর আরো ৩টি বিমান পাঠিয়েছে ভারত। ওষুধ ও ত্রাণসহ মেডিক্যাল টিম পাঠিয়েছে বাংলাদেশও।
সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, ফ্রান্স, জার্মানি, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আরো অনেক দেশ।
ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত, লণ্ডভণ্ড হিমালয় কন্যা নেপাল। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ধ্বংসস্তূপ। আর ধ্বংসস্তূপে এখনো চাপা পড়ে আছে অনেক মানুষ। যতো সময় গড়াচ্ছে, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততোই কমে আসছে। উদ্ধারকারী দল ও নগরবাসীর সহায়তায় উদ্ধার কাজ চলছে।
ঘরবাড়ি, প্রিয়জন হারিয়ে বেঁচে গেছেন-এমন হাজার হাজার মানুষ তীব্র ঠাণ্ডার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে রাত পার করেছেন। জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ ও ওষুধে জন্য হাহাকার করছে দুর্গতরা।
এদিকে, নেপাল ছাড়াও শনিবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং তিব্বতেও। বিহার ও উত্তর প্রদেশসহ ভারতের উত্তরাঞ্চলে ভবন ধসে মারা গেছেন অর্ধশতাধিক মানুষ।
বাংলাদেশে দুই দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূকম্পনে ময়মনসিংহে স্কুলভবনের ছাদ ধসে এক ছাত্র এবং পাবনায় আতঙ্কে এক স্কুল শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, হেলে গেছে রাজধানীর বংশালসহ পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি ভবন। আতঙ্কে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে আহত হয়েছে দেড় শতাধিক মানুষ।
একমিনিটেরও বেশি সময় ধরে ভূকম্পন অনূভূত হওয়ায় আতঙ্কে বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসে মানুষ। তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে আহত হন বেশ কয়েকজন। ভূমিকম্পে রাজধানীর রমনা কালী মন্দির ও তেজগাঁয়ে একটি বহুতল ভবনে ফাটল দেখা দেয়।
এছাড়া পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজার, বংশাল, বঙ্গবাজার ও যাত্রাবাড়িসহ বেশ কয়েক জায়গায় ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় স্কুল ভবনের ছাদ ধসে এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। আর পাবনায় আতঙ্কে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন এক স্কুল শিক্ষিকা।