নেপালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ৩৫০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আহত সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষ, নিখোঁজ অনেকেই। শনিবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পের একদিনপর রোববার পরাঘাতে আরো কয়েকবার কেঁপে ওঠে নেপাল। স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয় রাজধানী কাঠমান্ডু ও এর আশেপাশের এলাকায়। এছাড়াও দুপুরে দুই দফায় ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৬.৭।
হিমালয় কণ্যা নেপালে শনিবার আঘাত হনে শক্তিশালী ভূমিকম্প, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৭.৮। নেপালে ৮০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প এটি।
ব্যাপক শক্তিশালী, ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত, লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে গোটা নেপাল, চারদিকে ধ্বংসস্তূপ। আর ধ্বংসস্তূপে এখনো চাপা পড়ে আছে অনেক মানুষ। যতো সময় গড়াচ্ছে, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততোই কমে আসছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে সারাদেশে ৭ লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি পুরোপুরি কিংবা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। শুধুমাত্র কাঠমান্ডুতেই ৩ লাখ বাড়িঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশটির শত বছরের পুরনো কয়েকটি স্থাপনা ধবংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিমান বন্দর, দশরথ স্টেডিয়াম। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে টেলিযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।
ভূমিকম্পের প্রভাবে মাউন্ট এভারেস্টে ব্যাপক তুষারধস হয়েছে। এতেও বেস ক্যাম্পে নিহত হয়েছেন ১৭ পর্বতারোহি। নিখোজ অনেকেই।
ঘরবাড়ি, প্রিয়জন হারিয়ে বেঁচে গেছেন-এমন হাজার হাজার মানুষ তীব্র ঠাণ্ডার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে রাত পার করেছেন। ত্রাণ ও ওষুধের জন্য চারদিকে হাহাকার।
নেপালে দুর্গত মানুষের সাহায্যে হাত বাড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ ত্রাণ, ওষুধ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসক দল পাঠিয়েছে।
এদিকে, শনিবারের বড় ধরণের দুই দফা ভূকম্পনের পর রোববার আবারও সারাদেশে দুই দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে একজন নিহত ও অনেকেই আহত হয়েছেন। ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে বেশ কিছু জায়গায়।
রোববার দুপুর সোয়া একটার দিকে ভূমিকম্পের সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানীতে লোকজন ঘরবাড়ি-অফিস আদালত থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে অর্চার্ড পয়েন্ট মার্কেট ভবনে, সিরাজগঞ্জের বাজার স্টেশন রোডে একটি ভবনে, চুয়াডাঙ্গায় ভিজে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও রূপালী ব্যাংকের ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।
এছাড়া কুড়িগ্রামের উলিপুরে দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফাটল ধরায় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।
ভূমিকম্প আতঙ্কে শেরপুরের বেতমারি গ্রামে দৌড়ানোর সময় পড়ে গিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।