থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া সীমান্তে গত শুক্রবার গণকবরের কাছে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি বাংলাদেশি কি-না তা খতিয়ে দেখছে ব্যাংককের বাংলাদেশ দূতাবাস। সন্ধান পাওয়া গণকবরে বাংলাদেশিদের থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে একটি প্রতিনিধি দল সেখানে যাচ্ছে।
এরইমধ্যে গণকবর ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় এক মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করেছে থাই পুলিশ। সেইসঙ্গে আরো ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
গত শুক্র ও শনিবার মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তী থাইল্যান্ডের শংখলা প্রদেশে সাদাও এলাকার জঙ্গলে মানব পাচারকারীদের একটি অস্থায়ী ঘাঁটির গণকবর থেকে ২৬ জন অভিবাসীর কঙ্কাল উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা।
ধারণা করা হচ্ছে, এসব দেহাবশেষ পাচারকারীদের হাতে বন্দি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের নাগরিকদের। তবে সেখান থেকে যে দুজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের একজন নিজেকে বাংলাদেশি বলে দাবি করেছেন। এমনকি তাদের মধ্যে কমপক্ষে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছেন জীবিত উদ্ধার হওয়া এ ব্যক্তি।
এর রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন রোববার থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের জঙ্গলে পাচারকারীদের আরো একটি অস্থায়ী ঘাঁটির সন্ধান পাওয়া গেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশিসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তির দেহাবশেষ পাওয়া যেতে পারে। তবে কিভাবে এদের মৃত্যু হয়েছে, সে সম্পর্কে কোন তথ্য জানা যায়নি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রি শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, থাইল্যান্ডে বুদ্ধ পুর্ণিমার ছুটি শেষে সেখানকার জঙ্গলে বাংলাদেশি উদ্ধার হওয়ায় বিষয়ে খোঁজ খবর নেবে ব্যাংককের বাংলাদেশ দূতাবাস। তবে সেখানে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিকে থাইল্যান্ডের শেল্টার হোমে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে, গণকবর ও মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় এক মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করেছে থাই পুলিশ। সেই সঙ্গে আরো ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।