যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফলে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্যের বাংলা কমিউনিটিতে চলছে আনন্দ উল্লাস। জয় হয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন সাহসী কন্যার। লেবার দলের হয়ে গতবার জিতেছিলেন এক বাঙালি রুশরানা আলী। এবার সেই রুশরানার সঙ্গে এবার জিতেছেন আরো দুই বাঙালি কন্যা বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক ও ড. রুপা আশা হক।
ব্রিটেনের নির্বাচনের সবচেয়ে কঠিন এবং জটিল আসন হ্যাম্পস্টেড অ্যাণ্ড কিলবার্ন। ভোটের আগে এ আসন নিয়ে ব্রিটিশ মিডিয়ায় প্রচুর আলোচনা হয়েছে। কঠিন এই আসনে লেবার পার্টির টিকেটে এবার নির্বাচিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক। বরাবরই এ আসনে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হয়।
গত বছর এই আসন থেকে ৪২ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন লেবার পার্টির প্রার্থী। ক্ষমতাসীন কনজাভেটিভ পার্টি এ আসনটিকে টার্গেট সিট বানিয়ে রাখলেও শক্ত হাতে হাতল ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ। ফলে হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে বিরোধী নেতা মার্কোসকে পেছনে ফেলে জয় ছিনিয়ে আনেন তিনি।
লন্ডনের মিচামে জন্ম নেওয়া টিউলিপ কিংস কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৫ বছর বছর বয়স থেকে হ্যাম্পস্টেড অ্যাণ্ড কিনবার্নে বসবাস করছেন তিনি। ২০১০ সালে স্থানীয় ক্যামডেন কাউন্সিলে প্রথম বাঙালি নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হন টিউলিপ।
২০১০ সালের নির্বাচনে পূর্ব লণ্ডনের বেথনাল অ্যাণ্ড বো আসনে প্রায় ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে প্রথম ব্রিটিশ এমপি হয়ে ইতিহাস গড়েন সিলেটের কন্যা রুশনারা। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশিদের অভিষেক ঘটে।
এর ঠিক পাঁচ বছর পর বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আবারো অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করেছেন রুশনারা। এবারও ৬১% ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি পেয়েছেন মাত্র ১৫% ভোট।
রুশনারা দেশটির প্রধান বিরোধীদল লেবার পার্টির অন্যতম নীতিনির্ধারক।
অপরদিকে লণ্ডনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন ইলিং সেন্ট্রাল অ্যাণ্ড অ্যাকট। এ আসনে গতবার তিন হাজার ৭১৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন কনজারভেটিভ দলীয় প্রার্থী এঞ্জি ব্রে। তবে এবার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ড. রুপা হকের কাছে হার মানেন এঞ্জি ব্রে।
কিংস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পেশায় থাকা রুপা হক এর আগে ডেপুটি মেয়র হিসেবে স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রুপা হক কেমব্রিজে পড়েছেন রাজনীতি, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন। আর পড়াচ্ছেন সমাজ বিজ্ঞান, অপরাধ বিজ্ঞান, গণমাধ্যম ও সংস্কৃতি অধ্যয়নের মতো বিষয়।