আজ ৯ মে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলকালে এ দিনে তীব্র লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে সোভিয়েত বাহিনীর কাছে জার্মানির নাৎসি বাহিনীর পরাজয় হয়। এতে নিহত হয়েছিল ৬ কোটিরও বেশি মানুষ-যার অধিকাংশই সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা বর্তমান রাশিয়ার। তাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৭০ বছরপূর্তির দিনটি বেশ আড়ম্বরভাবে পালন করছে রাশিয়া। তবে ইউক্রেন ইস্যুকে কেন্দ্র করে এবারের আয়োজনে উপস্থিত হননি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ অনেক পশ্চিমা রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।
১৯৩৯ সালে সেপ্টেম্বরে জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্যদিয়ে মূলত শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। কিন্তু আনাক্রমণ চুক্তি ভঙ্গ করে ১৯৪১ সালের ২২ জুন সকালে জার্মানি নাৎসি বাহিনী সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করলে শুরু হয় যুদ্ধের নতুন পর্ব। সোভিয়েত লাল ফৌজ ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তুলেও শক্তিশালী নাৎসী বাহিনী দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলে। জার্মানি হামলা চালানোর প্রথম তিন সপ্তাহের মধ্যে সোভিয়েট বাহিনীর ৭ লাখ ৫০ হাজার সেনা নিহত হয় এবং বিধ্বংস্ত হয় তাদের ১০ হাজার ট্যাংক ও ৪ হাজার বিমান।
একের পর এক সোভীয়েত নগরী দখল করে তিন হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে ১৯৪১ সালের অক্টোবরে থেকে জার্মান বাহিনী পৌছে যায় মস্কোর উপকন্ঠে। এর মধ্যে সোভিয়েত বাহিনীর ৪৩ লাখ সেনা নিহত হয়। মস্কোর ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে জার্মান বাহিনী পৌছার পর লাল ফৌজ পাল্টা সফল আঘাত হানতে শুরু করে।
এরপর নাতসি বাহিনীকে তাড়াতে ১৯৪৪ সালে পুর্ব ইউরোপের বিশাল এলাকা পাড়ি দিয়ে লাল ফোজ ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত জার্মানীর নাৎসি বাহিনী ধীরে অগ্রসর হয়ে স্তালিনগ্রাদ অবরুদ্ধ করে রাখে। আর এ সময়টাতে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রায় ২০ লাখ সেনা ও সাধারণ নাগরিকের প্রাণহানি হয়। তারপরে দমে না গিয়ে মিত্রদেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৪৪ সালের পূর্ব ইউরোপের বিশাল এলাকা পাড়ি দিয়ে অগ্রসর হয়। এ সময় যুদ্ধে যোগ দেয় ইংল্যান্ড আমেরিকা ফ্রান্সের মিত্র শক্তি।
বুদাপেস্ট জয়ের পর সোভিয়েত লাল ফৌজ আক্রমণ চালায়ে ভিয়েনায় এবং ১৯৪৫ সালের ২৪ এপ্রিলের এই বাহিনী দুই দিক দিয়ে বার্লিন ঘিরে ফেলে। ঘনিয়ে আসে হিটলার ও তার সেনারাদের শেষ সময়ে। ৩০ এপ্রিল রাইস্ট্যাগে লাল পতাকা উত্তোলন করে সোভিয়েত লাল ফৌজ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৭০ বছরপূর্তির এ দিনটি বেশ আড়ম্বরভাবে পালন করছে রাশিয়া। আয়োজন করা হয়েছে সেনা কুচকাওয়াজের। যেখানে অংশ নিয়েছে হাজার হাজার রুশ সেনা। প্রর্দশন করা হয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র মহড়াও। অনুষ্ঠানের শুরুতে রাশিয়া প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন,সাম্প্রতিক সময়গুলোতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা হুমকির মুখে পড়ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি বিশটিরও বেশি দেশের প্রধান। কিন্তু ইউক্রেন ইস্যুকে কেন্দ্র করে এবারের আয়োজনে উপস্থিত হন নি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ অনেক পশ্চিমা রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।