মালয়েশিয়ার লাংকাবি উপকূল থেকে সোমবার এক হাজারেরও বেশি অবৈধ অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে—তারমধ্যে ৫৫৫ জন বাংলাদেশি, বাকিরা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বলে জানিয়েছেন লাংকাবির পুলিশ প্রধান।
আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা-আইওএম জানিয়েছে, এখনো ৮ হাজার বাংলাদেশি- মিয়ানমারের অবৈধ অভিবাসী থাইল্যান্ডের কাছাকাছি সাগরে আটকা পড়ে আছে। থাইল্যান্ডে সম্প্রতি মানবপাচার বিরোধী কঠোর অভিযান চালায় দেশটির উপকূলে আসার সুযোগ পাচ্ছে না নৌকাগুলো।
এছাড়া ইন্দোনেশিয়া উপকূল থেকে আরো উদ্ধার করা হয়েছে ৪০০ জনকে। উদ্ধারকৃতরা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের নাগরিক বলে ধারনা করা হচ্ছে।
গত দুই দিনে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূল থেকে এ নিয়ে প্রায় দুই হাজার অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিবাসীবাহী নৌযানগুলির প্রথমিক গন্তব্য ছিল থাইল্যান্ড।
কিন্তু সম্প্রতি ওইদেশে মানবপাচার বিরোধী অভিযান চালিয়ে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া অভিমুখে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে ধারনা করা হয়।
স্থানীয় সময় সোমবার সকালে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূল থেকে আরো ১৪০০ অবৈধ অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, চারটি নৌকায় করে তারা মালয়েশিয়ার লাংকাবি ও ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের উপকূলে এসে পৌঁছায়। যার মধ্যে তিনটি নৌকা মালয়েশিয়া এবং একটি ইন্দোনেশিয়ায় আসে।
ল্যাংকাবির পুলিশের উপ-প্রধান জামিল আহমেদ জানান, ওই তিনটি নৌকায় ১ হাজার ১৮জন অভিবাসী ছিল। যাদের মধ্যে ৫৫৫ জন বাংলাদেশি এবং ৪৬৩ জন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে নারী ৯৯ জন এবং শিশু ৫৪ জন।
এর মাত্র একদিন আগে রোববার ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে সাগর তীর থেকে ৬০০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে পুলিশ। তারাও বাংলাদেশের নাগরিক ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বলে ধারনা করা হচ্ছে। রোববার সকালে আচেহ'র সমুদ্র তীরে তাদের বহনকারী ওই নৌকাটি পৌছায়।
ধারনা করা হচ্ছে, এসব অভিবাসীবাহী নৌযানগুলির প্রাথমিক গন্তব্য ছিল থাইল্যান্ডে। কিন্তু ওইদেশে এখন মানবপাচার বিরোধী অভিযান চলায় এদের মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া অভিমুখে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের শঙ্খলা প্রদেশের পেদাং বেসার এলাকার গভীর জঙ্গলের গণকবর থেকে ৩০ জনের বেশি মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া উদ্ধার করা হয় বাংলাদেশিসহ শতাধিক অবৈধ অভিবাসীকে।
এদিকে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে কমপক্ষে ২৫ হাজার বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা মানব পাচারের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। এই সংখ্যা ২০১৪ সালের তুলনায় দ্বিগুণ বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।