পাকিস্তানের করাচিতে একটি যাত্রীবাহী বাসে গুলি চালিয়ে ৪৩ জনকে হত্যা করেছে বন্দুকধারীরা। বুধবার সকালে করাচির সফুরা চকের কাছে সংখ্যালঘু ইসমাঈলি সম্প্রদায়ের সদস্যদের বহনকারী বাসে এ গণহত্যা চালানো হয়। এ হত্যাযজ্ঞের দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে যাওয়া জঙ্গি গ্রুপ জানদুল্লাহ।
বিবিসি সূত্র মতে, পাকিস্তানে আবারো একটি নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ। করাচিতে একটি যাত্রিবাহী বাসে উঠে গুলি চালিয়ে ৪৩ জনকে হত্যা করেছে বন্দুকধারীরা। বাসটিতে ইসমাইলি সম্প্রদায়ের সদস্যরা ছিলেন। সকালে করাচির সফুরা চকের কাছে বাসে এ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা বাসটি থামিয়ে বাইরে থেকে গুলি করে। এরপর বাসের ভেতরে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। এ সময় তারা পুলিশের পোশাক পরিহিত ছিল বলে বেচে যাওয়া এক আরোহীর বরাত দিয়ে জানিয়েছেন এক উদ্ধার কর্মকর্তা।
সিন্ধু পুলিশের মহাপরিদর্শক জেনারেল গোলাম হায়দার জামালি বলেন, বাসটিতে ৬০ জন আরোহী ছিলেন। ৬ জন অস্ত্রধারী বাসের ভেতরে ঢুকে ৪৩ জনকে গুলি করে হত্যা করে। এ হত্যাযজ্ঞে তারা নাইন এমএম পিস্তল ব্যবহার করে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহতদের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ, আর নারী ১৬ জন। হতাহতদের মধ্যে কোনো শিশু নেই।
এদিকে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) থেকে বেরিয়ে যাওয়া জানদুল্লাহ গ্রুপের মুখপাত্র আহমেদ মারওয়াত এ হামলার দায় স্বীকার করেছেন। সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট এ গ্রুপটি দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে শিয়া সম্প্রদায় ও বিদেশি পর্যটকদের টার্গেট করে হামলা শুরু করে এবং এরপর একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে পাকিস্তানে সংখ্যালঘু ইসমাইলি সম্প্রদায়ের ওপর এ প্রথম বড় ধরনের হামলা চালানো হলো।